হেমন্ত গায়েব, বসন্তের ছোঁয়া! আচমকা গরম কেন? বঙ্গোপসাগর থেকে আসছে বিপজ্জনক ঘূর্ণাবর্ত

গত ৪৮ ঘণ্টায় আবহাওয়ার হঠাৎ পরিবর্তনে কার্যত উধাও হেমন্তের হিমেল পরশ। গায়ে লাগছে বসন্তের মতো উষ্ণতার ছোঁয়া। ঠান্ডা-গরমের মিশেলে হঠাৎ করে গরমের পরিমাণ বেশি মনে হচ্ছে, শরীরে হালকা ঘামও জমছে। আলিপুর আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগর থেকে পূবালী হাওয়ার অনুপ্রবেশই এই আকস্মিক উষ্ণতা বৃদ্ধির মূল কারণ।
দক্ষিণবঙ্গে বাড়ছে তাপমাত্রা, ঘূর্ণাবর্তের আশঙ্কা:
আলিপুর আবহাওয়া অফিসের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী দশ দিন ধরে দক্ষিণবঙ্গে পূবালী হাওয়ার অনুপ্রবেশ ঘটবে, যার দোসর হবে বাতাসে বেড়ে যাওয়া জলীয় বাষ্প। এর প্রভাবে দিন ও রাতের তাপমাত্রা ক্রমশ বাড়বে। আজ দিনের আকাশ মূলত পরিষ্কার থাকলেও, সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি ও সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ২০ ডিগ্রির আশেপাশে থাকবে।
এরই মধ্যে বঙ্গোপসাগরে সপ্তাহান্তে অর্থাৎ আগামী শনিবার তৈরি হতে চলেছে একটি শক্তিশালী ঘূর্ণাবর্ত, যা পরবর্তী ৭২ ঘণ্টায় নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়াবিদরা এই সম্ভাব্য নিম্নচাপের অভিমুখের দিকে নিবিড়ভাবে নজর রাখছেন।
উত্তরবঙ্গে বৃষ্টি ও পশ্চিমী ঝঞ্ঝা:
আজ, বৃহস্পতিবার থেকে উত্তর-পশ্চিম ভারতের শীতল হাওয়ার প্রবেশ বন্ধ হবে উত্তরবঙ্গে। এর বদলে ঢুকবে পশ্চিমী ঝঞ্ঝা। আজ এবং আগামিকাল (শুক্রবার) পশ্চিমী ঝঞ্ঝা উত্তরবঙ্গের উপর দিয়ে বইবে। ফলে দার্জিলিং ও কালিম্পংয়ে এই দু’দিন হালকা বৃষ্টির পূর্বাভাস রয়েছে।
সপ্তাহান্তে ঘনায়মান নিম্নচাপের কারণে বাতাসে জলীয় বাষ্পের পরিমাণ অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাবে। এর জেরে দক্ষিণবঙ্গের উপকূল লাগোয়া কয়েকটি জেলায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। পাশাপাশি আর্দ্রতাজনিত গরম এবং অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
ডিসেম্বরেও জোরালো ঠান্ডা নেই:
হাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৭ থেকে ৩০ নভেম্বর পর্যন্ত দক্ষিণবঙ্গের উপকূলবর্তী বেশ কয়েকটি জেলায় মেঘলা আকাশ থাকবে এবং সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে থাকবে। আবহাওয়াবিদদের মতে, চলতি অগ্রহায়ণ মাসে আর ঠান্ডার আমেজ জোরালোভাবে ফেরার সম্ভাবনা নেই। বুধবার কলকাতায় সর্বোচ্চ তাপমাত্রা ছিল $30.1^\circ$C (স্বাভাবিকের চেয়ে $0.1^\circ$C বেশি) এবং সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ছিল $18.8^\circ$C (স্বাভাবিকের চেয়ে $1.1^\circ$C কম)।