‘১ কোটি ১৫ লক্ষ নাম বাদ যেতে পারে’! SIR ইস্যুতে শুভেন্দুর বিস্ফোরক দাবি, পাল্টা কী বললেন কুণাল?

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধনের (SIR) কাজকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গের রাজনীতিতে তুমুল তরজা চলছে। উত্তর দিনাজপুরের ইসলামপুরে যখন ২০০২ সালের তালিকায় নাম না থাকা নিয়ে নাগরিকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে, তখনই বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী SIR-এ বিপুল সংখ্যক নাম বাদ যাওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করলেন।

শুভেন্দু অধিকারী বিস্ফোরক দাবি করে বলেছেন, “আইপ্যাক (I-PAC) আর পুলিশ রিপোর্ট করেছে, ১ কোটি ১৫ লক্ষ মতো নাম বাদ যেতে পারে। (নাম) বাদ গেলে ওঁরা জিতবেন না।” এর পরিপ্রেক্ষিতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর ভাইপো এবং প্রতীক জৈনের সঙ্গে একটি গোপন বৈঠক করেছেন বলেও অভিযোগ করেন শুভেন্দু। তাঁর দাবি, এরপরই নতুন করে পুলিশের তালিকা তৈরি করতে বলা হয়েছে।

এর পাল্টা জবাবে তৃণমূল কংগ্রেসের রাজ্য সাধারণ সম্পাদক কুণাল ঘোষ বলেন, “বিজেপি আতঙ্কে আছে, সেই কারণে ভোটারের নাম বাদ যাবে বলছে…”

কর্মীর মৃত্যুতে তরজা ও মুখ্যমন্ত্রীর আবেদন:

রাজ্য জুড়ে SIR চললেও, এই কাজের অতিরিক্ত চাপের কারণে জলপাইগুড়ির মালবাজারে একজন বুথ লেভেল অফিসারের (BLO) মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এক্স (আগের টুইটার) পোস্টে নির্বাচন কমিশনের কাছে আবেদন জানিয়েছেন: “আরও প্রাণহানির আগে এই অপরিকল্পিত অভিযান বন্ধ করুন।”

অন্যদিকে, শুভেন্দু অধিকারী পাল্টা দাবি করেছেন যে, ৭ই ডিসেম্বর নতুন করে পুলিশের ট্রান্সফার তালিকা তৈরি হচ্ছে।

কমিশনের বিশেষ প্রতিনিধি দল রাজ্যে:

এই উত্তপ্ত রাজনৈতিক আবহাওয়ার মধ্যেই SIR-এর কাজের অগ্রগতি খতিয়ে দেখতে রাজ্যে এসেছে নির্বাচন কমিশনের একটি বিশেষ প্রতিনিধি দল। মঙ্গলবার রাতেই পশ্চিমবঙ্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত সিনিয়র ডেপুটি ইলেকশন কমিশনার জ্ঞানেশ ভারতী-সহ ৬ জনের প্রতিনিধি দলটি কৃষ্ণনগরে পৌঁছায়।

বুধবার, এই দলটি নদিয়া এবং মুর্শিদাবাদের নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত আধিকারিকদের সঙ্গে বৈঠক করে। কৃষ্ণনগর জেলা প্রশাসনিক ভবনে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিক মনোজ কুমার আগরওয়ালও উপস্থিত ছিলেন। সূত্রের খবর, প্রতিনিধি দলটি SIR-এর কাজের অগ্রগতি নিয়ে বিশদে জানতে চেয়েছে।

উল্লেখ্য, ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হওয়া এনুমারেশন ফর্ম পূরণের কাজ চলবে ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত। খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশ হওয়ার কথা ৯ ডিসেম্বর। চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে আগামী বছরের ৭ ফেব্রুয়ারি। তখনই নিশ্চিতভাবে জানা যাবে, শেষ পর্যন্ত কত ভোটারের নাম বাদ পড়ল বা যুক্ত হলো।