পাহাড়ের রাজনীতিতে নতুন মোড়! GTA নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সংঘাত তুঙ্গে, মোদীকে ৪ পাতার চিঠি মমতার

পাহাড়ের প্রশাসনিক ও রাজনৈতিক জট নিয়ে কেন্দ্র এবং রাজ্যের মধ্যেকার পুরনো সংঘাত আবারও সামনে এল। এবার বিতর্কের কেন্দ্রে গোর্খাল্যান্ড টেরিটোরিয়াল অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (জিটিএ)-এর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের নতুন মধ্যস্থতাকারী নিয়োগের সিদ্ধান্ত। এই বিষয়ে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীকে চার পাতার দীর্ঘ চিঠি পাঠিয়েছেন।

রাজ্যের আপত্তি ঠিক কোথায়?

দীর্ঘদিন ধরেই গোর্খাল্যান্ডের প্রশাসনিক কাঠামো ও জিটিএ–র কার্যক্রম নিয়ে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়ের অভাব ছিল। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্ত সেই আগুনে ঘি ঢেলেছে। দার্জিলিং, তরাই এবং ডুয়ার্সের গোর্খা সংগঠনগুলির সঙ্গে আলোচনার জন্য প্রাক্তন আইপিএস পঙ্কজকুমার সিংহকে মধ্যস্থতাকারী হিসাবে নিয়োগ করেছে কেন্দ্র। রাজ্য সরকারের মূল আপত্তি, তাদের সঙ্গে কোনো আলোচনা না করেই একতরফাভাবে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় চিঠিতে দাবি করেছেন, রাজ্যের সঙ্গে পরামর্শ না করে প্রাক্তন আমলাদের এভাবে ব্যবহার করলে তাঁদের মধ্যে কেন্দ্রের প্রতি বিশেষ আনুগত্য তৈরি হতে পারে, যা পাহাড়ের পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে।

দ্বিতীয়বার চিঠি ও কেন্দ্রের ভূমিকা

সূত্র মারফত জানা গেছে, এই ঘটনায় মুখ্যমন্ত্রী এ মাসেই দ্বিতীয়বার কেন্দ্রকে চিঠি দিলেন। গত মাসেও তিনি একই অভিযোগ তুলে মোদীকে চিঠি দিয়েছিলেন। তখন প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে বিষয়টি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রককে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু মুখ্যমন্ত্রীর দাবি, সেই নির্দেশ মানা হয়নি। উল্টে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে যে প্রাক্তন আমলাটি ইতিমধ্যেই কাজ শুরু করে দিয়েছেন। রাজ্য সরকার এই পদক্ষেপকে ‘বিস্ময়কর’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

অন্যদিকে, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই অভিযোগকে একেবারেই আমল দিতে রাজি নন। তাঁর বক্তব্য, “মমতার এই চিঠির কোনো দাম নেই। কেন্দ্র যা করেছে, আইনের নিয়ম মেনেই করেছে। একজন আইপিএস তো রাজনৈতিক ব্যক্তি নন।” এই টানাপোড়েনের মধ্যে পাহাড়ের প্রশাসন এবং জিটিএ-এর ভবিষ্যৎ এখন এক অনিশ্চিত মোড়ে। রাজনৈতিক মহলের নজর এখন কেন্দ্র-রাজ্য সম্পর্কের পরবর্তী ধাপে।