‘হাই সোনা, কেমন আছো?’ ইনস্টাগ্রামে প্রাক্তন প্রেমিকার লাভ রিঅ্যাক্ট, মুহূর্তে স্বামী-স্ত্রীর সংঘর্ষ, ৩ জন হাসপাতালে!

‘রোজ কত কী ঘটে যাহা তাহা…’—একটি সামান্য ইনস্টাগ্রাম ‘লাভ রিঅ্যাক্ট’ পারিবারিক কলহের জন্ম দিয়ে তা মারাত্মক সংঘর্ষে পৌঁছতে পারে, ধূপগুড়ির ভেমটিয়া গ্রামের মানুষ তা ভাবতে পারেননি। স্বামীর ছবিতে প্রাক্তন প্রেমিকার দেওয়া একটি প্রতিক্রিয়া এবং ইঙ্গিতপূর্ণ মেসেজকে কেন্দ্র করে শুরু হওয়া তীব্র অশান্তি শেষ হলো হাসপাতালে।
লাভ রিঅ্যাক্ট থেকে মারপিট
অভিযোগ, ভেমটিয়া গ্রামের বাসিন্দা সাজাহান আলি দীর্ঘ দিন ধরে ইনস্টাগ্রামে তাঁর প্রাক্তন প্রেমিকার সঙ্গে যোগাযোগ রাখতেন এবং মাঝে মাঝে মেসেজ চালাচালি করতেন। সকালে সাজাহানের ছবির নিচে ওই প্রাক্তন প্রেমিকার দেওয়া লাভ রিঅ্যাক্টের সঙ্গে আসে একটি মেসেজ: “হাই সোনা, কেমন আছো?”
মেসেজটি নজরে আসতেই স্ত্রী রুবিনা বেগম বিষয়টি জানতে চান। অভিযোগ, সাজাহান প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে উল্টে ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন। কথার কাটাকাটি মুহূর্তে রূপ নেয় রুবিনাকে বেধড়ক মারধরের ঘটনায়।
বাঁচাতে এসে গুরুতর আহত দিদি
মারধরের সময় রুবিনা ফোনে কথা বলছিলেন তাঁর দিদি বিউটি পারভিনের সঙ্গে। বোনের চিৎকার শুনে বিউটি দ্রুত বোনের বাড়িতে ছুটে আসেন। এবার সংঘাত আরও বেড়ে যায়। অভিযোগ, রুবিনাকে মারধর করতে দেখে প্রতিবাদ জানালে ননদ রাবেয়া খাতুন বালতি দিয়ে বিউটির মাথায় আঘাত করেন। রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়েন তিনি।
পরে আহত রুবিনা, সাজাহান এবং বিউটিকে উদ্ধার করে ধূপগুড়ি মহকুমা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসার পর তাঁদের ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় পুলিশ। স্থানীয়দের অভিযোগ, পুলিশের সামনেও রুবিনা ও বিউটিকে মারধর করা হয়েছিল। এই ঘটনায় পুরো ভেমটিয়া গ্রামে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। সোশ্যাল মিডিয়ার সামান্য ভালোবাসা কীভাবে পরিবার ভেঙে রক্তাক্ত সংঘর্ষে পৌঁছল, তা ভেবে সবাই বাকরুদ্ধ।