WBCS-এ বাংলা জানা আবশ্যিক! ইন্টারভিউতে ব্যর্থ হলে বাতিল হবে প্রার্থীপদ, কঠোর নির্দেশিকা জারি WBPSC-র

রাজ্য প্রশাসনিক পরিষেবার সর্বোচ্চ পদে নিয়োগের পরীক্ষা WBCS (West Bengal Civil Service)-এর যোগ্যতার নিয়মে আরও কঠোরতা আনল পশ্চিমবঙ্গ পাবলিক সার্ভিস কমিশন (WBPSC)। ২০২৪ সালের WBCS পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, বাংলা ভাষা পড়া, লেখা ও বলার ক্ষমতা থাকা রাজ্যের এই চাকরির জন্য আবশ্যিক। এই নিয়ম থেকে একমাত্র নেপালিভাষী প্রার্থীরাই ছাড় পাবেন।

ইন্টারভিউতে বাংলা জানা বাধ্যতামূলক

কমিশনের নতুন বিজ্ঞপ্তিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন করা হয়েছে। অর্থ দপ্তরের ২০১৬ সালের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বাংলা বা নেপালি যাঁদের মাতৃভাষা নয়, তাঁদের ক্ষেত্রে ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্টের সময় তাঁদের বাংলা ভাষার জ্ঞান যাচাই করা হবে।

নতুন কঠোরতা: বিজ্ঞপ্তিতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ইন্টারভিউ বা পার্সোনালিটি টেস্টে বাংলা জানার পরীক্ষায় ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর আবেদন/প্রার্থীপদ সরাসরি বাতিল হয়ে যাবে।

কোথায় যাচাই হবে বাংলা ভাষার জ্ঞান?

প্রিলিমিনারি: এটি এমসিকিউ-ভিত্তিক স্ক্রিনিং পরীক্ষা, যেখানে ভাষার জ্ঞান সরাসরি যাচাই করা হয় না।

মেইন পরীক্ষা: এখানে ইংরেজির পাশাপাশি একটি আবশ্যিক ভাষার পেপার থাকে। পরীক্ষার্থীরা এই পেপারে বাংলা, নেপালি, সাঁওতালি, হিন্দি বা উর্দু—যেকোনো একটি ভাষা বেছে নিতে পারেন। ঐচ্ছিক বিষয়েও বাংলা পরীক্ষা না দিয়ে মেইন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া সম্ভব।

পার্সোনালিটি টেস্ট/ইন্টারভিউ: এটিই সেই চূড়ান্ত ধাপ, যেখানে চাকরি পেতে হলে প্রার্থীকে আবশ্যিকভাবে প্রমাণ করতে হবে যে তিনি বাংলা পড়তে, লিখতে ও বলতে সক্ষম।

সূত্র জানিয়েছে, রাজ্যের স্থায়ী বাসিন্দা হলেও যাঁদের মাতৃভাষা বাংলা নয় (যেমন হিন্দি বা সাঁওতালি), তাঁদের অসুবিধার কথা মাথায় রেখে মেইন পরীক্ষায় বাংলা বাধ্যতামূলক করা হয়নি। কিন্তু রাজ্যের সর্বোচ্চ প্রশাসনিক চাকরিতে যোগদানের জন্য ভাষাজ্ঞান অপরিহার্য। এই কড়াকড়ির ফলে ভিনরাজ্য থেকে আসা অবাঙালি পরীক্ষার্থীদের জন্য এই পরীক্ষায় সফল হওয়া একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াবে। এর আগে ক্লার্কশিপের মতো পরীক্ষাতেও বাংলা না জানার কারণে বহু সফল প্রার্থীর নিয়োগ বাতিল হয়েছিল।