বদলে যাচ্ছে ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থা! আসছে প্লাস্টিকের নোট? বড় ইঙ্গিত দিল আরবিআই

ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় কি এবার বড়সড় বদল আসতে চলেছে? দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার ভারতে চালু হতে পারে ‘পলিমার’ বা প্লাস্টিকের নোট। সম্প্রতি রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়া (RBI)-এর তরফ থেকে দেওয়া ইঙ্গিত সেই জল্পনাকেই আরও জোরালো করেছে।
কেন প্লাস্টিকের নোটের ভাবনা?
বর্তমানে আমাদের হাতে থাকা নোটগুলো তুলা ও লিনেনের বিশেষ মিশ্রণে তৈরি। কিন্তু পলিমার নোট তৈরি হয় বিওপিপি (BOPP) নামক এক বিশেষ ধরনের প্লাস্টিক ফিল্ম দিয়ে। এর প্রধান সুবিধাগুলো হলো:
স্থায়িত্ব: এই নোট সহজে ছিঁড়ে যায় না, জলে ভিজলেও নষ্ট হয় না। ওয়াশিং মেশিনে ধোয়া হলেও এর ছাপার কোনো ক্ষতি হয় না।
দীর্ঘায়ু: কাগজের নোটের তুলনায় এই নোটগুলো অনেক বেশি দীর্ঘস্থায়ী, ফলে বারবার নতুন নোট ছাপানোর খরচ অনেক কমে যাবে।
সুরক্ষা: এই নোটে স্বচ্ছ উইন্ডো এবং জটিল সুরক্ষা বৈশিষ্ট্য যোগ করা যায়, যা জাল নোট তৈরি করা অসম্ভব করে তোলে।
পুরানো সেই পরীক্ষা ও বর্তমান পরিকল্পনা:
পলিমার নোটের ধারণা নতুন নয়। ২০১৪ সালে কোচি, মহীশূর, জয়পুর, শিমলা এবং ভুবনেশ্বরে পরীক্ষামূলকভাবে ১০ টাকার প্লাস্টিক নোট চালুর পরিকল্পনা হয়েছিল। যদিও প্রযুক্তিগত ও উৎপাদনজনিত জটিলতায় তা বাস্তবায়িত হয়নি। কিন্তু বর্তমানে প্রযুক্তির উন্নতির ফলে আরবিআই নতুন করে এই বিষয়টি নিয়ে মূল্যায়ন শুরু করেছে। আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মালহোত্রা জানিয়েছেন, নোটের স্থায়িত্ব এবং নিরাপত্তা বজায় রাখাই তাদের মূল লক্ষ্য।
বিশ্বের কোন কোন দেশ এই পথে হেঁটেছে?
মুদ্রা ব্যবস্থায় এই আধুনিক প্রযুক্তি গ্রহণে ভারত একা নয়। এর আগে অস্ট্রেলিয়া প্রথম এই ব্যবস্থার সূচনা করে। পরবর্তীতে কানাডা, নিউজিল্যান্ড, সিঙ্গাপুর এবং ব্রিটেনের মতো উন্নত দেশগুলো সাফল্যের সঙ্গে পলিমার নোট ব্যবহার করছে। সেই দেশগুলোর অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়েই ভারত এই নতুন যুগের দিকে পা বাড়াতে চাইছে।
নিরাপত্তার নতুন কবচ:
পলিমার নোট তৈরিতে ব্যবহৃত ‘বাইঅ্যাক্সিয়ালি ওরিয়েন্টেড পলিপ্রোপিলিন’ কাগজ থেকে পাতলা কিন্তু অত্যন্ত শক্তিশালী ও নমনীয়। এর বিশেষ আবরণ কালিকে দীর্ঘকাল স্থায়ী করে। তাপমাত্রা বা আর্দ্রতা—কোনো কিছুতেই এই নোটের গুণমান নষ্ট হয় না।
উপসংহার: যদিও এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি, তবুও রিজার্ভ ব্যাংকের ইতিবাচক মনোভাব ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, আগামী কয়েক বছরের মধ্যে ভারতীয়দের হাতে পৌঁছে যেতে পারে নতুন প্রজন্মের এই প্লাস্টিকের নোট। এটি ভারতের মুদ্রা ব্যবস্থায় এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে বলেই মনে করছে বিশেষজ্ঞ মহল।