স্বাস্থ্যভবনের সিদ্ধান্তে তোলপাড়! বাতিল মেডিক্যাল শিক্ষকদের পদোন্নতির প্যানেল, ক্ষোভে চিকিৎসক মহল

রাজ্যের স্বাস্থ্য ব্যবস্থায় চিকিৎসক ও শিক্ষকদের পদোন্নতি নিয়ে তৈরি হলো নতুন জটিলতা। গত মার্চ মাসে মেডিক্যাল এডুকেশন সার্ভিসে পদোন্নতির জন্য যে প্যানেল প্রস্তুত করা হয়েছিল, তা আচমকাই বাতিল করল রাজ্য সরকার। স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সিদ্ধান্তের ফলে দীর্ঘ প্রতীক্ষায় থাকা শিক্ষক-চিকিৎসকদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ ও ক্ষোভ।

কী জানাল স্বাস্থ্য ভবন?
স্বাস্থ্য দপ্তরের সাম্প্রতিক বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, বর্তমানে প্রফেসর (২২৬টি), অ্যাসোসিয়েট প্রফেসর (৪৭১টি) এবং অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর (৩২৮টি) পদে মোট ১,০২৫টি শূন্যপদ রয়েছে। এই পদগুলি পূরণের জন্য গত কয়েক মাস আগে যে সাক্ষাৎকার প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছিল, তা বাতিল করা হয়েছে। নতুন নির্দেশিকায় জানানো হয়েছে, পুরো প্রক্রিয়াটি নতুন করে শুরু হবে।

নতুন আবেদনের সময়সীমা:
অনলাইন আবেদন শুরু: ১৫ জুন, ২০২৬

আবেদনের শেষ তারিখ: ৩০ জুন, ২০২৬
স্বাস্থ্য দপ্তরের স্পষ্ট নির্দেশ, যারা আগের প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছিলেন, তাদেরও নতুন করে আবেদনের আবেদন করতে হবে। নতুন ইন্টারভিউয়ের সময়সূচি পরবর্তীতে জানানো হবে।

কেন বাতিল প্যানেল? ধোঁয়াশা প্রশাসনিক স্তরে
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে—সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়া প্রক্রিয়াটি হঠাৎ কেন বাতিল করা হলো? এর পেছনে সরকারের তরফে সুনির্দিষ্ট কোনো কারণ এখনো ব্যাখ্যা করা হয়নি। স্বভাবতই প্রশ্ন উঠছে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও কার্যকারিতা নিয়ে। যারা ইতিমধ্যে সফলভাবে ইন্টারভিউ দিয়েছিলেন, তারা এখন ক্যারিয়ারের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার মুখে।

বিতর্কের কেন্দ্রে স্বাস্থ্য দপ্তর
স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে দীর্ঘদিন ধরেই শূন্যপদ পূরণ এবং পদোন্নতির দাবিতে সরব ছিলেন চিকিৎসক সংগঠনগুলো। একদিকে শূন্যপদের পাহাড়, অন্যদিকে সম্পন্ন হওয়া প্যানেল বাতিল করে নতুন করে প্রক্রিয়া শুরু—এই দ্বিমুখী সিদ্ধান্তে প্রশাসনিক অদূরদর্শিতার অভিযোগ তুলছেন অনেকেই। চিকিৎসকদের মতে, এর ফলে পদোন্নতির বিষয়টি আরও বেশ কয়েক মাস পিছিয়ে গেল, যা স্বাস্থ্য পরিষেবার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

তদন্তকারী মহল ও চিকিৎসক সংগঠনগুলো এখন সরকারের এই সিদ্ধান্তের পেছনের আসল কারণ জানতে মরিয়া। একদিকে পদোন্নতির প্রত্যাশা, অন্যদিকে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা—সব মিলিয়ে রাজ্যের স্বাস্থ্য দপ্তরের এই সাম্প্রতিক পদক্ষেপে অস্বস্তিতে ওয়াকিবহাল মহল।