শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৫৮৩ মামলা, বৃহস্পতিবার রায়! হত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগে কাঠগড়ায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা, হামলা এবং মানবতাবিরোধী অপরাধসহ মোট ৫৮৩টি মামলা দায়ের হয়েছে। এই বিপুল সংখ্যক মামলার মধ্যে শুধু আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালেই তাঁর বিরুদ্ধে ২৭টি মামলা বিচারাধীন রয়েছে। এর মধ্যে একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলার রায় বৃহস্পতিবার জানা যেতে পারে, এমনটাই ইঙ্গিত দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চীফ প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট তাজুল ইসলাম।
পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই-আগস্ট আন্দোলন পরবর্তী সময়ে সারা দেশে দায়ের হওয়া মোট ১,৬০২টি মামলার মধ্যে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ৩২৪টি হত্যা মামলাসহ মোট ৫৭৬টি মামলা হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধ: সর্বোচ্চ শাস্তি চাইলো প্রসিকিউশন
বৃহস্পতিবার যে মামলার রায় ঘোষণা হতে পারে, তাতে শেখ হাসিনাসহ সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ও সাবেক আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন আসামি ছিলেন। তবে আইজিপি চৌধুরী আব্দুল্লাহ আল মামুন রাজসাক্ষী হয়েছেন। রাষ্ট্রপক্ষ থেকে শেখ হাসিনাসহ তিনজনের বিরুদ্ধে যৌথ দায় হিসেবে মানবতাবিরোধী অপরাধের পাঁচটি অভিযোগ আনা হয়েছে।
ফর্মাল চার্জের এক নম্বর অভিযোগে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা গত ১৪ জুলাই গণভবনে ‘উসকানিমূলক বক্তব্য’ প্রদান করেন এবং নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণের অংশ হিসেবে হত্যা, হত্যার চেষ্টা ও নির্যাতনের জন্য ‘প্ররোচনা, উসকানি, সহায়তা’ করেছেন। প্রসিকিউশন এই মামলায় শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দায় হিসেবে সর্বোচ্চ শাস্তি চেয়েছে, যা মৃত্যুদণ্ড পর্যন্ত হতে পারে।
ইতোমধ্যেই ছয় মাসের কারাদণ্ড এবং রাষ্ট্রদ্রোহ মামলা
ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর গত জুলাই মাসে আদালত অবমাননার একটি মামলায় শেখ হাসিনাকে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এছাড়া, অন্তর্বর্তী সরকারকে উৎখাত ও রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে অংশ নেওয়ার অভিযোগে তাঁর বিরুদ্ধে ‘রাষ্ট্রদ্রোহ’ মামলাও বিচারের জন্য প্রস্তুত হয়ে বিচারিক আদালতে বদলি হয়েছে।
তবে শেখ হাসিনার পক্ষে রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী আমির হোসেন আশা প্রকাশ করেছেন, তিনি খালাস পাবেন। তিনি ডয়চে ভেলেকে জানান, শেখ হাসিনা বা তাঁর পক্ষ থেকে কেউ তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করেননি, বা কোনো তথ্য-উপাত্তও তাঁকে সরবরাহ করা হয়নি।
বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও প্রসিকিউটর মো. মিজানুল ইসলাম দৃঢ়ভাবে দাবি করেছেন, বিচার স্বচ্ছ এবং স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তাঁর মতে, বাইরে যে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা হচ্ছে, তা ‘থ্রেট টু জাস্টিস’ নয়, তবে বিচারকে বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা।
অন্যদিকে, প্রবীণ আইনজীবী জেড আই খান পান্না বিচার প্রক্রিয়া নিয়ে সরাসরি মন্তব্য করতে অস্বীকার করেন। তবে তিনি বলেন, “যদি কোনোদিন পট পরিবর্তন হয়, আওয়ামী লীগ ফিরে আসে তাহলে এই রায় টিকবে না… আমি এই বিচারকে গুরুত্ব দিচ্ছি না।”