লাল কেল্লা বিস্ফোরণ-কাণ্ডে বাংলার যোগ! মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে NIA-গুজরাত ATS-এর হানা, জেরা পরিযায়ী শ্রমিক মইনুলকে

দিল্লিতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ কাণ্ডের তদন্তে এবার জড়িয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের নাম। এই ঘটনার তদন্তে বুধবার দুপুরে মুর্শিদাবাদের নবগ্রামে হানা দিল ন্যাশনাল ইনভেস্টিগেশন এজেন্সি (এনআইএ) এবং গুজরাত এটিএস (অ্যান্টি টেরোরিস্ট স্কোয়াড)। সূত্র মারফত এই খবর পাওয়া গিয়েছে।

কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থাগুলোর একটি দল মুর্শিদাবাদের নিমগ্রামে অভিযান চালায় এবং আচমকাই মইনুল হাসান নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে হানা দেয়। জানা গিয়েছে, মইনুল পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক এবং কাজের সূত্রে দিল্লি, মুম্বই-সহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যাতায়াত করতেন। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দাদের অনুমান, সেই সময়ই কিছু জঙ্গি সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে তাঁর যোগাযোগ তৈরি হয়েছিল। মইনুলকে দীর্ঘক্ষণ জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় এবং তাঁর বয়ান রেকর্ড করা হয়েছে।

ভুয়ো আইডি-সহ জঙ্গি মডিউল সক্রিয়?
এনআইএ সূত্র জানিয়েছে, মইনুল ছাড়াও আরও কয়েকজনের নাম তদন্তকারীদের হাতে এসেছে এবং তাদের খোঁজেই মুর্শিদাবাদের বিভিন্ন প্রান্তে অভিযান চলছে। কেন্দ্রীয় তদন্তকারীদের ধারণা, দিল্লির লাল কেল্লা বিস্ফোরণ কাণ্ডে মুর্শিদাবাদের একাধিক ব্যক্তির সরাসরি বা পরোক্ষ যোগাযোগ থাকতে পারে।

উল্লেখ্য, মুর্শিদাবাদ জেলায় অতীতেও একাধিকবার জঙ্গি সংগঠনের কার্যকলাপের প্রমাণ মিলেছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে আনসারুল্লা বাংলা টিম (ABT)-এর কয়েকজন সদস্যকে এখান থেকেই গ্রেফতার করা হয়েছিল। গোয়েন্দাদের দাবি, এবারও সেই জঙ্গি চক্রের সঙ্গেই কোনও যোগাযোগ ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

দিল্লি বিস্ফোরণ কাণ্ডে ইতিমধ্যেই ১৫ জনকে আটক করা হয়েছে এবং চার চিকিৎসকের নামও উঠে এসেছে। তদন্তকারীরা মনে করছেন, ধৃত সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ ও তাদের থেকে পাওয়া সামগ্রীর সূত্র ধরেই এই ঘটনার সঙ্গে মুর্শিদাবাদের যোগ পাওয়া যায়। নিজেদের জঙ্গি মডিউল আরও সক্রিয় করার জন্য বেশ কয়েক বছর ধরে একাধিক বাংলাদেশিকে এরাজ্যে ভুয়ো আইডি বানিয়ে ঢুকিয়ে দেওয়া হয়েছে। ভুয়ো আইডি তৈরি করে কেউ এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত কি না, সেটাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।