ঘরে বসে বাড়তি রোজগার, একবার খরচ, ৭ মাসেই ফলন! ড্রাগন চাষ করে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন আলো দেখাচ্ছেন প্রাক্তন সেনাকর্মী

জঙ্গলমহলের মাটিতে এবার ফলছে অত্যন্ত উপকারী এবং লাভজনক ফল—ড্রাগন ফ্রুট। আর এই বিশেষ ক্যাকটাস জাতীয় ফলের চাষে ব্যাপক সাফল্যের দিশা দেখাচ্ছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের ডেবরা ব্লকের রাধামোহনপুর এলাকার এক অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী, স্বপন ভুঁইয়া। তাঁর এই অভিনব কৃষি উদ্যোগ বর্তমানে গ্রামীণ অর্থনীতি এবং বেকার যুব সমাজের জন্য এক নতুন রোল মডেল হিসেবে উঠে এসেছে।
চাকরি জীবন শেষ হওয়ার পর তথাকথিত ফসলের বাইরে বেরিয়ে এসে স্বপন বাবু তাঁর বাড়ির বেশ কয়েক বিঘা জমিতে বিজ্ঞানসম্মত উপায়ে ড্রাগন ফল চাষ শুরু করেন। ড্রাগন ফল বর্তমানে বাজারে বেশ চড়া দামে বিক্রি হয় এবং এর চাহিদাও প্রচুর।
কীভাবে এই চাষ লাভজনক?
উদ্যোগপতি স্বপন ভুঁইয়া জানিয়েছেন, ড্রাগন ফলের চাষ অত্যন্ত লাভজনক।
প্রাথমিক খরচ: এক বিঘা জমি তৈরি, খুঁটি পোঁতা, গাছ লাগানো, সার ও ওষুধ ব্যবহার করে ফসল ফলানো পর্যন্ত মোট খরচ হয় প্রায় আড়াই থেকে তিন লক্ষ টাকা।
ফলন সময়: গাছ লাগানোর মাত্র সাত মাস পর থেকেই ফলন পাওয়া যায়।
পরিচর্যা: এই চাষে বাড়তি জলের প্রয়োজন হয় না এবং তেমন কোনও বিশেষ পরিচর্যাও লাগে না। পচন ও পোকামাকড় থেকে রক্ষা করলেই অনায়াসে ভালো ফলন মেলে।
আয়: স্বপন বাবুর দাবি, এক বিঘা জমি থেকে প্রতিবারে প্রায় লক্ষাধিক টাকা আয় হতে পারে।
স্থানীয় বাজারের পাশাপাশি পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে এই ফলের চাহিদা বেশ ভালো। কৃষি বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকেও এটি কম খরচে লাভজনক ফসল হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।
চাকরি বা অন্যান্য কাজের পিছনে না ছুটে, বাড়িতে পড়ে থাকা সামান্য জমিতে বাণিজ্যিকভাবে এই ড্রাগন ফল চাষ যে অতিরিক্ত রোজগারের পথ দেখাতে পারে, সেই বার্তা দিচ্ছেন প্রাক্তন সেনাকর্মী স্বপন ভুঁইয়া। তাঁর সাফল্য জঙ্গলমহলের যুব সমাজকে স্বনির্ভর হওয়ার নতুন প্রেরণা দিচ্ছে।