‘সব কিছুর জন্য অভিষেককে দোষারোপ ঠিক নয়,’-জেনেনিন কি বলছেন সৌগত

৪ মে-এর রাজনৈতিক পালাবদলের পর থেকেই তৃণমূলের অন্দরে অস্থিরতা চরমে। একদিকে যখন একের পর এক বিধায়ক ও সাংসদ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গ ত্যাগ করছেন, অন্যদিকে তখন দলের অন্দরেই অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভূমিকা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র মতভেদ। এই পরিস্থিতিতে মুখ খুললেন তৃণমূলের বর্ষীয়ান সাংসদ সৌগত রায়।
অভিষেককে নিয়ে সৌগতর সাফাই: দলের বর্তমান পরিস্থিতির জন্য সরাসরি অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়কে দায়ী করতে নারাজ সৌগত রায়। তিনি স্পষ্ট জানান, “দলের হাল খারাপ, বিধানসভা ভোটে হার হয়েছে—এটা অস্বীকার করার উপায় নেই। কিন্তু সবকিছুর জন্য অভিষেককে দোষারোপ করা অযৌক্তিক।” তাঁর যুক্তি, যারা আজ অভিষেকের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উগরে দিচ্ছেন, ৪ মে-র আগেও তো তারাই তাঁর জয়জয়কার করতেন। তখন তো কেউ এই অভিযোগ তোলেননি।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের তোপ ও রহস্য: সম্প্রতি কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় মমতাকে উদ্দেশ্য করে বলেছিলেন, “হয় অভিষেককে রাখুন, না হয় আমাদের রাখুন।” এই উগ্র প্রতিক্রিয়ার নেপথ্যে কল্যাণ ঠিক কেন এত চটে রয়েছেন, তা নিয়ে সৌগত রায় অবশ্য সরাসরি কিছু না বললেও তাঁর মন্তব্যে স্পষ্ট যে দলের প্রবীণ ও নবীন প্রজন্মের এই দ্বন্দ্ব তিনি ভালোভাবে নিচ্ছেন না।
সায়নী ঘোষের দলবদল নিয়ে জল্পনা: সায়নী ঘোষের দলত্যাগ নিয়েও এদিন রহস্য উন্মোচন করলেন সৌগত রায়। তিনি জানান, চার-পাঁচ দিন আগেই সায়নীর সাথে তাঁর কথা হয়েছিল। তখনও সায়নী তাঁকে আশ্বস্ত করেছিলেন যে তিনি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সঙ্গেই থাকবেন। কিন্তু হঠাৎ কেন এই মতবদল করলেন, তা নিয়ে সৌগতবাবুও অবাক। তিনি বলেন, “বিমানবন্দর থেকে সানগ্লাস ও টুপি পরে বেরোনোর সময় তাঁকে দেখা গেল। কেন হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত নিলেন, সেটা একমাত্র সায়নীই বলতে পারবে।”
মমতার দিকেই নজর: দলত্যাগ ও দল বদলের মরশুমে সৌগত রায় যে এখনও দলনেত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রেখেছেন, তা তাঁর এই মন্তব্যে পরিষ্কার। তবে দলের শৃঙ্খলা ভেঙে যারা প্রকাশ্যে বিরোধিতা করছেন, তাদের এই আচরণে তিনি যে কিছুটা হতাশ, তা তাঁর কথায় স্পষ্ট।
তৃণমূলের অন্দরের এই ডামাডোল ঠিক কতদূর পর্যন্ত গড়াবে? দলের শীর্ষ নেতৃত্ব কি পারবে এই ভাঙন রুখতে? প্রশ্ন এখন সেটাই।
তৃণমূলের এই ভাঙনের জন্য আপনি কাকে বেশি দায়ী বলে মনে করেন? আপনার মতামত আমাদের কমেন্ট বক্সে জানান।