২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক উদ্ধারকাণ্ড, হোয়াইট কলার টেরর মডিউল! ডাঃ শাহিনকে গ্রেফতারের পর কী বললেন ডাক্তার প্রাক্তন স্বামী?

জইশ-ই-মহম্মদের (JeM) মহিলা শাখা ‘জামাত-উল-মোমিনাত’-এর নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগে ধৃত ডাঃ শাহিনের জঙ্গি-যোগ বিশ্বাস করতে পারছেন না তাঁর দাদা মহম্মদ শোয়েব এবং প্রাক্তন স্বামী ডাঃ জাফর হায়াত। হরিয়ানার ফরিদাবাদ থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া ডাঃ শাহিনকে ইতিমধ্যে শ্রীনগরে নিয়ে গিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন তদন্তকারীরা।

প্রাক্তন স্বামীর বক্তব্য

কানপুরের কেপিএম হাসপাতালের চক্ষুরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ জাফর হায়াত, যিনি ২০০৩ সাল থেকে ২০১২ সালের শেষ দিক পর্যন্ত শাহিনের স্বামী ছিলেন, তিনি সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, শাহিনের জঙ্গি-যোগের কথা তিনি গতকালই জানতে পেরেছেন। তিনি বলেন, “শাহিন কখনও বোরকা পরত না। সে খুব সুন্দর ও যত্নশীল মানুষ ছিল। আমাদের মধ্যে কখনও ঝগড়া হয়নি। আমি ভাবতেই পারছি না, ও কোনও জঙ্গি সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।” জাফর হায়াত এও জানান যে, শাহিন বিয়ের পর উন্নত জীবন যাপনের জন্য ইউরোপ বা অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে থিতু হতে চেয়েছিল। সন্তানদের প্রতিও সে যথেষ্ট যত্নবান ছিল। এই দম্পতির দুই সন্তান—দ্বাদশ এবং দশম শ্রেণির পড়ুয়া—বর্তমানে জাফর হায়াতের সঙ্গেই থাকে।

পরিবারের অবিশ্বাস

ধৃত শাহিনের দাদা মহম্মদ শোয়েবও বোনের এই জঙ্গি-যোগের অভিযোগ বিশ্বাস করতে পারছেন না। তিনি জানান, শাহিন ডাক্তারি পড়ার সময়ও তাঁর মধ্যে এরকম কোনও সন্দেহজনক লক্ষণ দেখা যায়নি। শোয়েব জানান, বিগত চার বছর ধরে শাহিনের সঙ্গে তাঁদের কোনও যোগাযোগ ছিল না। তিনি বলেন, “বাবা-মায়েরা তো স্বাভাবিক ভাবেই সন্তানের জন্য দুশ্চিন্তা করবেন। আমি তার বড় দাদা, আমারও চিন্তা হত।” এদিকে, শাহিনের বাবা সৈয়দ আহমদ আনসারি একমাস আগে মেয়ের সঙ্গে শেষ কথা বলেন। তিনিও মেয়ের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগে স্তম্ভিত।

হোয়াইট কলার টেরর মডিউল

ফরিদাবাদের ধৌজ এলাকায় একটি বাড়ি থেকে গত সপ্তাহে ফরিদাবাদ ও জম্মু-কাশ্মীর পুলিশের যৌথ দল ২,৯০০ কেজি বিস্ফোরক (যার মধ্যে ৩৬০ কেজি অ্যামোনিয়াম নাইট্রেট বলে মনে করা হচ্ছে) উদ্ধার করে। এই ঘটনায় ডাঃ শাহিন এবং আল ফালাহ বিশ্ববিদ্যালয়ের আরও দুই চিকিৎসক—মুজাম্মিল শাকিল ও মুজাম্মিল আহমদ গানাইকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিস্ফোরকের পাশাপাশি ডাঃ শাহিনের গাড়ি থেকে AK-47 রাইফেলও উদ্ধার হয়েছে। তদন্তকারীরা জানতে পেরেছেন, শাহিনকে জইশ-ই-মহম্মদের মহিলা শাখার নেতৃত্ব ও মহিলাদের মগজধোলাই করে জঙ্গি সংগঠনে নিয়োগের দায়িত্ব দিয়েছিল স্বয়ং মাসুদ আজহারের আত্মীয় সাদিয়া আজহার। তদন্তকারীরা এই চিকিৎসকদের দিল্লি বিস্ফোরণের মূলচক্রী ডাঃ উমর নবির সঙ্গেও যোগাযোগ খুঁজে পেয়েছেন। এই চিকিৎসকরা তাঁদের সম্মানীয় পেশার আড়ালে জইশ-ই-মহম্মদ ও আনসার গাজওয়াত-উল-হিন্দের হয়ে কাজ করত বলে অভিযোগ।