শুভেন্দু-কমিশন ‘সেট’! 2002 সালের ভোটার তালিকা ধরে SIR কেন? তৃণমূলের আইনজীবী সাংসদের বিস্ফোরক অভিযোগ

এসআইআর (SIR) বা ভোটার তালিকা বিশেষ নিবিড় সংক্রান্ত এনুমারেশন প্রক্রিয়াকে ‘অসাংবিধানিক এবং নির্বাচন আইন বহির্ভূত’ বলে সরাসরি চ্যালেঞ্জ করলেন তৃণমূলের সাংসদ ও আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। বুধবার কলকাতায় এক সাংবাদিক বৈঠকে তিনি অভিযোগ করেন, নির্বাচন কমিশন সম্পূর্ণভাবে বিজেপির নির্দেশ মেনে চলছে। এই বিষয়ে তাঁরা আদালতে নিজেদের বক্তব্য তুলে ধরবেন বলেও জানান শ্রীরামপুরের এই সাংসদ।
কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়ের মূল অভিযোগ, বিজেপিকে সুবিধা দিতেই নির্বাচন কমিশন বিএলএ (BLA) নিয়োগের পুরনো নিয়ম রাতারাতি পরিবর্তন করেছে। তিনি বলেন, “আগে কমিশনের কঠোর নির্দেশিকা ছিল, বিএলএকে নিজের বুথেই নিয়োগ করতে হবে। যেহেতু ৭৫ শতাংশ বুথে বিজেপি নির্দিষ্ট বুথ থেকে বিএলএ দিতে পারছে না, তাই নির্বাচন কমিশন বিজেপিকে খুশি করতে একটি নয়া নির্দেশিকা জারি করেছে। নয়া নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোনও দল প্রয়োজনে অন্য জায়গা থেকে বিএলএ নিয়োগ করতে পারে, শুধু সেই বিধানসভা কেন্দ্রের ভোটার হতে হবে।”
তিনি প্রশ্ন তোলেন, শুধুমাত্র বিজেপিকে সহায়তা করতে কেন এই কঠোর নির্দেশিকা পালটে গেল? তিনি দাবি করেন, এর মাধ্যমেই প্রমাণিত যে নির্বাচন কমিশন বিজেপির হয়ে কাজ করছে। তাঁর আরও বিস্ফোরক অভিযোগ, নয়া নির্দেশিকা ঘোষণার কয়েক মিনিটের মধ্যেই শুভেন্দু অধিকারী এটি তাঁর এক্স হ্যান্ডেলে পোস্ট করেন, যা প্রমাণ করে যে বিষয়টি ‘সেট করা’ ছিল।
এসআইআর পদ্ধতির সাংবিধানিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন
আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এসআইআর প্রক্রিয়ার বৈধতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন। তাঁর বক্তব্য, নির্বাচন কমিশন ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ধরে এসআইআর করছে। কিন্তু ২০০৯ সালের পর সংসদীয় সীমানা পুনর্বিন্যাস (ডিলিমিটেশন) হওয়ায় নতুন ভোটার তালিকা চলে এসেছে। “ইলেক্টোরাল রুল ২৪ অনুযায়ী ডিলিমিটেশনের পর আগের কোনও ভোটার তালিকা আর গ্রাহ্য করা হবে না। এটাই আইন। তাহলে ২০০২ সালের ভোটার তালিকা ধরে যেভাবে এসআইআর হচ্ছে, সেটা নির্বাচন আইনের পরিপন্থী,” দাবি তাঁর।
তিনি হুঁশিয়ারি দেন, একবার বৈধ ভোটারের তালিকায় নাম উঠে গেলে তাকে আবার নতুন করে ভোটার হওয়ার জন্য এনুমারেশন ফর্ম ফিল-আপ করতে বাধ্য করা অসাংবিধানিক। তিনি সাধারণ মানুষকে আতঙ্কিত না হওয়ার আশ্বাস দিয়ে বলেন, প্রত্যেক বৈধ ভোটারের নাম তালিকায় তোলার দায়িত্ব তৃণমূলের।
শুভেন্দু অধিকারীর অভিযোগকে ‘নিকৃষ্ট রাজনীতি’ আখ্যা
যে সময় কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায় এই বৈঠক করছেন, ঠিক সেই সময় শুভেন্দু অধিকারী রাজ্যে ১৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের তালিকা কমিশনে জমা দেন। এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে কল্যাণের মন্তব্য, “এই পাঁচটি বিধানসভা কেন্দ্র আগে শুভেন্দু অধিকারী দেখত। এসব শুভেন্দু অধিকারীই করে গিয়েছে। এ এক অদ্ভুত লোক। টাকা নিয়ে চাকরি দিয়ে পরে বলছে, ওদের চাকরি খাও। এ তলারও খাবে, উপরেরও খাবে। ভারতবর্ষ বোধহয় এমন নিকৃষ্ট রাজনৈতিক নেতা কখনও দেখেনি।” তিনি জানান, দোলা সেন, ডেরেক ও’ব্রায়ান ও মালা রায় এই বিষয়ে সুপ্রিম কোর্টে মামলা করেছেন এবং শীর্ষ আদালত দু’সপ্তাহের মধ্যে বিষয়টি শুনবে।