মদ খেয়ে মারধর, অপহরণের চেষ্টা! এক IAS অফিসারের বিরুদ্ধে শারীরিক-মানসিক নির্যাতনের মারাত্মক অভিযোগ আনলেন স্ত্রী, চাঞ্চল্য রাজস্থানে!

রাজস্থানের আমলা মহলে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে ২০১৪ ব্যাচের IAS অফিসার আশিস মোদির বিরুদ্ধে তাঁর স্ত্রী, ভারতী দীক্ষিতের আনা মারাত্মক অভিযোগ ঘিরে। ভারতী দীক্ষিত রাজস্থানের অর্থ দফতরের জয়েন্ট সেক্রেটারি পদে কর্মরত। তাঁর অভিযোগ, IAS স্বামী আশিস মোদি শুধু শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনই চালাতেন না, বরং নিজের প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করে নানা অনৈতিক কাজও চালিয়ে গিয়েছেন।
জানা গিয়েছে, আশিস মোদি বর্তমানে রাজস্থানের ‘সামাজিক ন্যায় ও ক্ষমতায়ন’ দফতরের ডিরেক্টর। স্ত্রী ভারতী দীক্ষিতের অভিযোগ, আশিস প্রায়শই মদ খেয়ে তাঁকে মারধর করতেন এবং প্রাণে মেরে ফেলার হুমকিও দিতেন।
জোর করে বিয়ে, মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে মিথ্যে বলানোর অভিযোগ
ভারতী দীক্ষিতের দাবি, তিনি আশিসের কাছে প্রতারিত হয়েছেন। তাঁর বাবার ক্যান্সারের চিকিৎসার সময়ে পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে জোর করে তাঁকে বিয়ে করেন আশিস। ভারতী বলেন, “আমাকে অনেক মিথ্যে বলেছিল আশিস। আর বিয়ের পর থেকেই আমার উপর নির্যাতন চালাত সে।”
অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় ২০১৮ সালে মেয়ে হওয়ার পর ভারতী জয়পুর ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন। কিন্তু মাতৃত্বকালীন ছুটি (Maternity Leave) শেষ হয়ে গেলে তাঁকে আবার ফিরে আসতে হয়।
পুলিশ সূত্রে খবর, আশিস মোদি বিবাহ বিচ্ছেদ (ডিভোর্স) চাইছিলেন, কিন্তু ভারতী তাতে রাজি ছিলেন না। এই ঘটনার জেরে একবার তাঁকে অপহরণ করে সরকারি গাড়িতে বেশ কয়েক ঘণ্টা ধরে বন্ধ করে রাখেন আশিস ও তাঁর কয়েকজন বন্ধুবান্ধব।
সবচেয়ে ভয়ঙ্কর অভিযোগটি হল—একবার ভারতী যখন তাঁর বাবার সঙ্গে ফোনে কথা বলছিলেন, তখন আশিস তাঁর মাথায় বন্দুক ঠেকিয়ে বাবাকে মিথ্যা কথা বলতে বাধ্য করেন।
পুলিশ জানিয়েছে, এই অভিযোগের ভিত্তিতে ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) এবং তথ্য প্রযুক্তি (আইটি) আইনের নির্দিষ্ট ধারায় মামলা রুজু করে তদন্ত শুরু হয়েছে।