বাংলাদেশ সীমান্তে বাড়ছে নজরদারি! সুন্দরবনের গভীর সমুদ্রে মৎস্যজীবীদের ট্রলারে পুলিশি তল্লাশি, হাই অ্যালার্ট জারি দক্ষিণ ২৪ পরগনায়!

গত ১০ নভেম্বর দিল্লিতে বিস্ফোরণের পর দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ২৬/১১ মুম্বই হামলার (যেখানে জঙ্গিরা জলপথে প্রবেশ করেছিল) পুনরাবৃত্তি আটকাতে দক্ষিণ ২৪ পরগনার সুন্দরবন এলাকার জলসীমা, সড়কপথ এবং রেলপথে কড়া নজরদারি শুরু করেছে প্রশাসন।

সুন্দরবন এলাকা বাংলাদেশের সঙ্গে জলসীমা ভাগ করে নেয়। তাই এই সীমান্তবর্তী এলাকায় নজরদারি কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

জলপথে নজরদারি: ট্রলারে তল্লাশি, নৌবাহিনী সক্রিয়

ফ্রেজারগঞ্জ উপকূল থানার পক্ষ থেকে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে যাওয়া সকল মৎস্যজীবীদের এবং তাঁদের ট্রলারগুলিতে চেকিং চালানো হচ্ছে। পুলিশকর্মীরা ট্রলারে উঠে তল্লাশি করছেন।

মৎস্যজীবী সুদর্শন দাস জানান, “দিল্লির ঘটনার পর থেকে গভীর সমুদ্রে যে সকল মৎস্যজীবীরা মাছ ধরতে যাচ্ছেন, তাঁদের ট্রলার এবং মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র খতিয়ে দেখছে পুলিশ।”

নৌবাহিনী হোভারক্রাফ্টের মাধ্যমে ভারতের জলসীমায় নজরদারি চালাচ্ছে।

পুলিশ মৎস্যজীবী ও এলাকাবাসীকে সন্দেহভাজন কোনও ব্যক্তি এলাকায় এলে তৎক্ষণাৎ খবর দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে।

সড়ক ও রেলপথে কড়াকড়ি

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে শুধুমাত্র জলপথে নয়, জনবহুল সড়ক ও রেলপথেও নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে:

সড়কপথ: ১১৭ নম্বর জাতীয় সড়কে নাকা চেকিং চলছে। প্রতিটি যানবাহন থামিয়ে তল্লাশি করছেন জেলা পুলিশের কর্মীরা। পণ্যবাহী এবং যাত্রীবাহী প্রতিটি গাড়িকে পরীক্ষা করা হচ্ছে।

রেলপথ: রেল পুলিশের পক্ষ থেকে শিয়ালদা দক্ষিণ শাখার ট্রেনে কড়া নজরদারি চলছে। কাকদ্বীপ, নামখানা, ডায়মন্ডহারবার, বারুইপুর-সহ একাধিক স্টেশনে যাত্রীদের ব্যাগ ও তাঁদের পরিচয় তল্লাশি করা হচ্ছে। এক রেলযাত্রী রতন মাইতি বলেন, “রেল পুলিশের আধিকারিকরা প্রতিটি যাত্রীকে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। আমার ব্যাগও তল্লাশি করা হয়েছে।”

পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও সতর্কতা

শীতের মরশুমে পর্যটকদের ভিড় থাকায় সুন্দরবনের পর্যটন কেন্দ্রগুলিতেও সতর্কতা জারি করা হয়েছে। বকখালি, মৌসুনি দ্বীপ, হেনরি আইল্যান্ড, গঙ্গাসাগর, সুন্দরবন, পাথরপ্রতিমা ও ডায়মন্ডহারবার-সহ সমস্ত পর্যটন কেন্দ্রে জোরকদমে নজরদারি চলছে।

সুন্দরবন পুলিশ জেলার পুলিশ সুপার কোটেশ্বর রাও বলেন, “দিল্লির ঘটনার পর গোটা দেশজুড়ে হাই অ্যালার্ট জারি হয়েছে। সুন্দরবন পুলিশ জেলার পক্ষ থেকে জলপথে ও সড়কপথে নজরদারি এবং নাকা চেকিং চালানো হচ্ছে। মৎস্যজীবীদের পরিচয়পত্র সঙ্গে রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। কড়া নিরাপত্তার চাদরে মুড়ে ফেলা হয়েছে এলাকা।”