ভোটার তালিকায় ডবল এন্ট্রি! ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ভুয়ো ভোটারের অভিযোগ নিয়ে শুভেন্দু অধিকারী মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে

ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (SIR – Special Intensive Revision) আবহে রাজ্য রাজনীতিতে শাসক দল তৃণমূল কংগ্রেস এবং প্রধান বিরোধী দল বিজেপির মধ্যে চরম তরজা শুরু হয়েছে। এবার সারা বাংলায় ‘ডবল এন্ট্রি’র তালিকা নিয়ে রাজ্যের মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের (CEO) দফতরে পৌঁছলেন বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী।

দফতরে প্রবেশের আগে তিনি অভিযোগ করেন যে, সারা বাংলাতে মোট ৩ লক্ষ ২৫ হাজার ডবল এন্ট্রি (Duplicate Entries) খুঁজে পাওয়া গেছে। তিনি আরও জানান যে, সারা বাংলায় অনিয়মের তথ্যে ভরা একটি পেন ড্রাইভও তিনি সঙ্গে নিয়ে এসেছেন, যাতে রয়েছে ১০০-এর বেশি ডকুমেন্ট, ফর্মের স্ক্যান কপি এবং ডেটা এন্ট্রির প্রমাণ।

শুভেন্দুর মূল অভিযোগগুলি:
ডবল এন্ট্রি: প্রায় ৩.২৫ লক্ষ নাম ডবল এন্ট্রি হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

মৃত ব্যক্তির নামে ফর্ম: মৃত ব্যক্তির নামেও SIR ফর্ম দেওয়া হচ্ছে।

BLO-দের অনিয়ম: বুথ লেভেল অফিসাররা (BLO) বাড়ি বাড়ি না গিয়ে এক জায়গা থেকে SIR ফর্ম বিলি করছেন।

সীমান্তবর্তী জেলায় অনুপ্রবেশ: মুর্শিদাবাদ, মালদা, উত্তর ২৪ পরগনার মতো সীমান্তবর্তী জেলায় ডবল এন্ট্রির সংখ্যা সবচেয়ে বেশি। শুভেন্দুর অভিযোগ, “এটা শুধু ডুপ্লিকেট নয়, অনেক ক্ষেত্রে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নামও ঢোকানো হচ্ছে।”

নির্বাচনী অফিসে ঢোকার আগে শুভেন্দু হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, “আমরা চিঠি দিয়েছি, তদন্তের দাবি করেছি। যদি না শোনা হয়, তাহলে দিল্লিতে যাব।”

তৃণমূলের পাল্টা অভিযোগ ও হুঁশিয়ারি

তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে এই অভিযোগকে পুরোপুরি খারিজ করা হয়েছে। তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় পাল্টা হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যে, যদি কোনো বৈধ ভোটারের নাম বাদ পড়ে, তাহলে তাঁরাও দিল্লিতে নির্বাচন কমিশনের অফিসে যাবেন।

তৃণমূলের দাবি, ২০০২ সালের লিস্ট থেকে হঠাৎ নাম অদৃশ্য হয়ে যাচ্ছে, যা বিজেপির চক্রান্ত। মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ও মন্তব্য করেছেন, “ভোটার লিস্টে ভূতুড়ে ভোটার ঢোকানো হচ্ছে, কিন্তু আমরা সতর্ক।”

নির্বাচন কমিশনের নির্দেশেই এই SIR প্রক্রিয়া শুরু হয়েছিল ভোটার লিস্টকে স্বচ্ছ করার উদ্দেশ্যে। তবে এখন এই প্রক্রিয়া দুই প্রধান দলের পাল্টাপাল্টি অভিযোগে বড় বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।