নিয়োগ দুর্নীতিতে সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর দিকে আঙুল সুকান্তের, ‘বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের নাম পার্থ না মমতা ঢুকিয়েছিলেন?’

স্কুলে নিয়োগ দুর্নীতি ইস্যুতে এবার সরাসরি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দিকে আঙুল তুললেন কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী এবং বিজেপির প্রাক্তন রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। সম্প্রতি প্রকাশিত অযোগ্য অশিক্ষক কর্মীদের তালিকাটিকেই তিনি তাঁর আক্রমণের হাতিয়ার করলেন।
মঙ্গলবার সাংবাদিক বৈঠক করে সুকান্ত মজুমদার অভিযোগ করেন, অযোগ্যদের তালিকায় নাম থাকা বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় বোলপুরের নিমাই মুখোপাধ্যায়ের কন্যা এবং তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের আত্মীয়। সূত্রের খবর উল্লেখ করে সুকান্ত বলেন, “বৃষ্টি মুখোপাধ্যায় মানসিকভাবে অসুস্থ ছিলেন এবং ওষুধ খেতেন। ফলে তাঁর পক্ষে পরীক্ষায় বসা সম্ভব ছিল না।”
এরপরই তিনি সরাসরি মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে তোপ দাগেন। সুকান্ত প্রশ্ন তোলেন, “মুখ্যমন্ত্রীর কাছে যখনই নিয়োগ কেলেঙ্কারি নিয়ে প্রশ্ন করা হয়, তাঁর দল পার্থ চট্টোপাধ্যায় বা অন্যদের দিকে দায় ঠেলে দেয়। আমরা জানতে চাই, পার্থ চট্টোপাধ্যায় নিজে কি বৃষ্টি মুখোপাধ্যায়ের নাম তালিকায় যুক্ত করেছিলেন, নাকি মুখ্যমন্ত্রী তাঁকে তা করার নির্দেশ দিয়েছিলেন?”
তালিকায় তৃণমূল বিধায়কের ভাই:
তিনি জানান, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে সম্প্রতি ১৫ হাজার শিক্ষক ও গত ৪ নভেম্বর ৩,৫১২ জন অযোগ্য অশিক্ষক কর্মীর তালিকা প্রকাশিত হয়। এই ৩,৫১২ জন অযোগ্য কর্মীর মধ্যে ২,৩৪৯ জন গ্রুপ-ডি এবং ১,১৬৩ জন গ্রুপ-সি বিভাগের কর্মী ছিলেন। সুকান্ত মজুমদারের অভিযোগ, এই তালিকায় তৃণমূল কংগ্রেসের সঙ্গে যুক্ত বহু নাম রয়েছে।
তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেন, “তাঁদের মধ্যে একজন হলেন শান্তনু মালিক, যিনি তৃণমূলের বর্ধমান উত্তর বিধানসভা কেন্দ্রের বিধায়ক নিশীথকুমার মালিকের ভাই। অপরজন খোকন মাহাতো, ইনি শালবনির তৃণমূল বিধায়কের ভাই, যিনি বৈতাশ্রী গোপাল হাইস্কুলে ক্লার্ক পদে চাকরি পান।”
যোগ্যদের চাকরি পুনর্বহাল ও ‘এগিয়ে বাংলা’ মডেল:
সুকান্ত মজুমদার আদালতের কাছে আবেদন করেন, অযোগ্যদের তালিকা প্রকাশের পর যাঁরা ন্যায়সঙ্গতভাবে চাকরি পেয়েছেন, তাঁদের চাকরি অবিলম্বে পুনর্বহাল ও বেতন প্রদান করা হোক। তিনি রাজ্য সরকারকে সুপ্রিম কোর্টে আবেদন জানানোর পরামর্শ দেন। তিনি বলেন, “৪৮ বছর বয়সে একজন মানুষের পক্ষে পুনরায় পরীক্ষা দিয়ে উত্তীর্ণ হওয়া প্রায় অসম্ভব, কারণ তাঁরা নিয়মিত পাঠ্যক্রমের সঙ্গে যুক্ত নেই বহুদিন ধরে।”
কেন্দ্রীয় শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী অভিযোগ করেন, এই নিয়োগ কেলেঙ্কারির কারণে ২০১৯-২০২৪ সালের মধ্যে প্রায় নয় লক্ষ পড়ুয়া সরকারি স্কুল ছেড়ে বেসরকারি স্কুলে চলে গিয়েছে। তিনি কটাক্ষ করে বলেন, বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার শিক্ষক ৩,৮০০টি ছাত্রশূন্য স্কুলে পড়াচ্ছেন। ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষে সারাদেশে ২০,৮১৭ জন শিক্ষক ছাত্রশূন্য স্কুলে কর্মরত, যার মধ্যে ১৭,৯৬৫ জনই পশ্চিমবঙ্গের। এটাই ‘এগিয়ে বাংলা’-র মডেল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
তিনি আরও জানান, এনআইআরএফ (NIRF) র্যাঙ্কিং-এ কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয় ২৬তম স্থান থেকে ৪৭তম স্থানে এবং যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ১২ থেকে ১৮ নম্বরে নেমে গিয়েছে। দেশের শিক্ষা ক্ষেত্রে যখন ভারত গ্লোবাল ইনোভেশন ইনডেক্স-এ ৭৯তম থেকে ৩৯তম স্থানে পৌঁছেছে এবং ভারতীয় বিজ্ঞানীরা প্রায় ৯২ হাজার পেটেন্ট দাখিল করছেন, তখন পশ্চিমবঙ্গের প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা সম্পূর্ণভাবে ভেঙে পড়েছে।