১১০টি ‘ভ্যান হাসপাতাল’ চালু করলেন মমতা, প্রত্যন্ত গ্রামে মিলবে বিনামূল্যে চিকিৎসা?

রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবা প্রত্যন্ত গ্রাম এবং পাহাড়ি এলাকার মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছে দিতে এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ গ্রহণ করল রাজ্য সরকার। মঙ্গলবার স্বাস্থ্যভবন থেকে ১১০টি অত্যাধুনিক ‘মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট’-এর (MMU) উদ্বোধন করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এই ভ্রাম্যমাণ চিকিৎসা কেন্দ্রগুলিকে রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিষেবার ক্ষেত্রে ‘গেম চেঞ্জার’ হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।

কী রয়েছে এই ভ্যানগুলিতে?
নবগঠিত এই মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটগুলি আসলে ‘চাকা লাগানো হাসপাতাল’-এর মতো। প্রতিটি ভ্যানে থাকছে চিকিৎসা সংক্রান্ত আধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রাথমিক চিকিৎসার যাবতীয় সরঞ্জাম এবং জীবনদায়ী সহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় ওষুধপত্র।

মুখ্যমন্ত্রী জানান, সাংসদদের উন্নয়ন তহবিল বাবদ প্রাপ্ত ৮৪ কোটি টাকা ব্যয়ে মোট ২১০টি মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিট তৈরি করা হয়েছে, যার মধ্যে এদিন ১১০টির পরিষেবা শুরু হলো। বাকি ইউনিটগুলিও শীঘ্রই চালু হবে।

কারা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন?
মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, এই ইউনিটগুলিতে একজন চিকিৎসক, নার্স, টেকনিশিয়ান ও প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম উপস্থিত থাকবেন। ইউনিটগুলি কোথায় কখন যাবে, তা স্থানীয় মানুষকে আগে থেকেই জানিয়ে দেওয়া হবে। এর ফলে অন্তঃসত্ত্বা মহিলা এবং শিশুরা বিশেষভাবে উপকৃত হবেন বলে আশা করা হচ্ছে। এছাড়াও, অন্যান্য সাধারণ রোগীরা চিকিৎসা পাবেন এবং জটিলতার ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় রোগীকে নিকটবর্তী হাসপাতালে রেফার করার সুবিধাও থাকবে।

এক ভ্যানে ৩৫ রোগের পরীক্ষা, খরচ কত?
এই মোবাইল মেডিক্যাল ইউনিটগুলি থেকে সাধারণ মানুষ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে ৩৫টি রোগের পরীক্ষা করাতে পারবেন। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো:

হিমোগ্লোবিন পরীক্ষা

প্রেগন্যান্সি টেস্ট

ম্যালেরিয়া পরীক্ষা

ইসিজি

ব্লাড সুগার

এই মহৎ পরিষেবা চালু রাখতে রাজ্য সরকারকে বছরে প্রায় ৩০ কোটি টাকা অতিরিক্ত খরচ করতে হবে বলে জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাঁর দাবি, গত ১৪ বছরে রাজ্যে স্বাস্থ্যক্ষেত্রে এক অভূতপূর্ব ‘বিপ্লব’ এসেছে।

SIR নিয়ে ফের সরব হলেন মুখ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য প্রকল্পের উদ্বোধনের পর মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় এদিন আরও একবার ‘SIR’ (Self-Identified Religion) ইস্যু নিয়ে মুখ খোলেন। তিনি জানান, আগে বিশেষত গ্রামগঞ্জে অনেকের জন্ম বাড়িতে হওয়ায়, প্রাতিষ্ঠানিক জন্ম প্রমাণপত্র থাকত না। সেই ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতার সার্টিফিকেটে উল্লিখিত তারিখকেই জন্ম তারিখ হিসেবে গণ্য করা হতো। তবে বর্তমানে রাজ্যের ৯৯.৪ শতাংশ শিশুর জন্মই কোনও না কোনো স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে হচ্ছে বলে তিনি জানান।