দারিদ্র্য জয়! কুলটির ফেরিওয়ালার টিনের চালের বাড়িতে এবার ‘সুখের আলো’, ছেলে আদর্শ প্রসাদ হলেন চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

কুলটির সীতারামপুর বিশ্বকর্মা নগরের বাসিন্দা, পেশায় ফেরিওয়ালা দুর্গেশ প্রসাদের টিনের চালের বাড়িতে যেন এবার চাঁদের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। দারিদ্র্য এবং প্রতিকূলতা জয় করে তাঁর বড় ছেলে আদর্শ প্রসাদ চার্টার্ড অ্যাকাউন্টেন্সি (CA) ফাইনাল পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হয়েছেন। ঘরের মাঝে বাঁশের ঠেকনা দেওয়া, পলেস্তারাহীন এই বাড়িটিই এখন এই অভাবনীয় সাফল্যের সাক্ষী।

ফেরিওয়ালার দৈনন্দিন সংগ্রাম:

দুর্গেশ প্রসাদ বাচ্চাদের জামাকাপড় ফেরি করে বিক্রি করেন। রোজ কাকভোরে সীতারামপুর স্টেশন থেকে ট্রেন ধরে চলে যান ধানবাদে। সারাদিন পরিশ্রমের পর সন্ধ্যায় ব্ল্যাক ডায়মন্ড ট্রেন ধরে বাড়ি ফেরেন। সামান্য রোজগারে সংসার টানতেই হিমশিম খেতেন তিনি। স্ত্রী ছাড়াও বাড়িতে তিন মেধাবী সন্তানকে পড়ানোর খরচ জোগাতে দাঁতে দাঁত চেপে লড়াই করে গেছেন তিনি।

আদর্শের কঠিন পথ:

আদর্শ ছোট থেকেই অত্যন্ত মেধাবী ছিলেন। কুলটির একটি বেসরকারি স্কুল থেকে মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক পাশ করেন। তাঁর পড়ার আগ্রহ দেখে স্কুলের শিক্ষকরা তাঁকে বিনা পয়সায় টিউশন পড়াতেন। সিএ পড়ার সময়ও অনেকেই বন্ধুর মতো তাঁর পাশে এসে দাঁড়ান। অবশেষে, গত ৩ নভেম্বর সিএ ফাইনাল পরীক্ষার ফলপ্রকাশ হলে জানা যায়, আদর্শ ৫৩ শতাংশ নম্বর পেয়েছেন।

আদর্শ প্রসাদ বলেন:

“অনেক কষ্ট করে পড়াশোনা করেছি। আমার বাবা আমাকে ফেরির কাজ করে পড়াশোনা করিয়েছেন। অনেক কষ্ট সত্ত্বেও তিনি পড়াশোনার খরচ জুগিয়েছেন। তাই আগামী দিনে পরিবারকে নিয়েই চলতে চাই। আশা করছি কয়েকদিনের মধ্যেই ভালো চাকরি পাব। তারপর বাড়ির পরিবেশ আমি পাল্টাতে চাই।”

পরিবারের উচ্ছ্বাস ও আশা:

ছেলে সিএ পাশ করতেই দুর্গেশ প্রসাদ এবং তাঁর স্ত্রী মায়া দেবীর চোখে এখন আনন্দের অশ্রু।

দুর্গেশ প্রসাদ বলেন:

“আমরা অনেক দারিদ্রতার সঙ্গে লড়াই করেছি। বৃষ্টির দিনে ঘরে জল পড়ে। ছেলেমেয়েরা যাতে পড়াশোনা করতে পারে, তার জন্য দাঁতে দাঁত চেপে কষ্ট করে গেছি। আজ ভালো লাগছে। আশা রাখব ও আমাদেরকে সঙ্গে নিয়েই চলবে।”

আদর্শের মা মায়া দেবীও একই কথা বলেন, এবং আশা রাখেন যে পরিবারের বড় ছেলে হিসেবে আদর্শ যেন ভাইবোনদের নিয়ে আগামী দিনে তার দায়িত্ব পালন করে। আদর্শের ভাই এবং বোন দু’জনেই বর্তমানে কলকাতায় অ্যাকাউন্টেন্সি নিয়ে উচ্চশিক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

আদর্শের এই সাফল্যে খুশি প্রতিবেশী বিমল নাথসহ এলাকার সকল মানুষ। তারা বলছেন, ফেরিওয়ালা বাবার এই পরিশ্রম সার্থক হলো।