আজব কাণ্ড SIR-এর আবহে, অবিবাহিতা প্রৌঢ়া বিবাহিত, এপিক নম্বর হাতবদল হয়ে নদিয়ায়! বসিরহাটে শোরগোল

ভোটার তালিকা সংশোধনের (SIR) আবহে বসিরহাটে নির্বাচন কমিশনের গাফিলতির এক আজব কাণ্ড প্রকাশ্যে এসেছে। বসিরহাট পুরসভার ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা, ৫৫ বছর বয়সী অবিবাহিতা প্রৌঢ়া স্বপ্না সরকারের নাম ২০২০ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় জ্বলজ্বল করলেও, তাঁর নামের পাশে জুড়ে গিয়েছে ‘বিবাহিত’ শব্দটি। শুধু তাই নয়, তাঁর সচিত্র পরিচয়পত্রের (EPIC) নম্বরও হাতবদল হয়ে চলে গিয়েছে নদিয়ার হরিণঘাটায়।

কীভাবে ঘটল এই ঘটনা?

নেওড়া দিঘির পাড়ের বাসিন্দা স্বপ্না সরকারের বাড়িতে তাঁর দুই বিশেষভাবে সক্ষম ভাই রয়েছেন। তাঁদের দেখাশোনা করতে গিয়ে তিনি আর বিয়ে করেননি। সম্প্রতি রাজ্যে ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরু হলে, স্বপ্না জানতে পারেন যে তাঁর ভোটার আইডি হরিণঘাটা বিধানসভার ৩২ নম্বর বুথে ট্রান্সফার করা হয়েছে।

এই বিষয়ে খোঁজ নিতে গিয়ে তিনি আরও জানতে পারেন যে বসিরহাটের এই অবিবাহিত স্বপ্না সরকারের নামের পাশে ‘বিবাহিত’ লেখা হয়েছে এবং স্বামীর নামও যুক্ত করা হয়েছে। সবচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, খসড়া তালিকায় স্বামী হিসেবে তাঁর এক ভাইকেই দেখানো হয়েছে।

স্বপ্না সরকার বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন:

“২০২০ সালের সংশোধিত ভোটার তালিকায় নাম রয়েছে ঠিকই। কিন্তু, অবাক করা বিষয় স্বামী হিসেবে দেখানো হয়েছে আমার এক ভাইকে। অথচ আমি কোনও দিন বিয়েই করিনি। আমার পক্ষে এতদূর যাওয়া কী সম্ভব? এটা সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের গাফিলতি।”

তিনি আবেদন জানিয়েছেন, তাঁর ভোটার কার্ডের এপিক নম্বর যেন পুনরায় বসিরহাটে ফিরিয়ে আনা হয়।

চক্রান্তের আশঙ্কা স্থানীয় নেতার:

স্থানীয় বিএলএ এবং প্রাক্তন তৃণমূল কাউন্সিলর সরদার ইলিয়াস আলি এই ঘটনায় নির্বাচন কমিশনের গাফিলতিকেই কাঠগড়ায় তুলেছেন। তিনি এর নেপথ্যে চক্রান্ত থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

ইলিয়াস আলি জানান, তিনি হরিণঘাটার বিএলও-র সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন যে হরিণঘাটার ওই পার্টে স্বপ্না সরকার নামে যে মহিলার নাম উঠেছে, তিনি সেখানকার আশু সরকারের দ্বিতীয় স্ত্রী। যদিও বসিরহাটের স্বপ্না সরকারের সঙ্গে হরিণঘাটার স্বপ্না সরকারের কোনো যোগসূত্র নেই।

“স্বপ্না সরকারের বিষয়টি রহস্যজনক। আমার আশঙ্কা, এর পিছনে কোনও চক্রান্ত রয়েছে। এপিক নম্বরটি কীভাবে ট্রান্সফার হল, এটা একটা রহস্য। আমার মনে হচ্ছে, সর্ষের মধ্যেই ভূত আছে।”

প্রশাসনের আশ্বাস:

বিষয়টি নিয়ে বসিরহাট ১ নম্বর ব্লকের বিডিও সমীর কুমার হালদারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, “বিষয়টি আমার জানা নেই। খোঁজ নিয়ে দেখতে হবে। তার পরেই এ নিয়ে কিছু বলতে পারব।”

রাজ্যে SIR আবহে এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই বসিরহাটের নেওড়া দিঘির পাড় এলাকায় শোরগোল পড়ে গিয়েছে। প্রশাসনিক মহলের একাংশও এর পিছনে কোনও অসাধু চক্রের হাত থাকার আশঙ্কা করছে।