এসআইআর আবহে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব চরমে! কালিয়াচকে দলেরই BLA-কে ‘বন্দুকের বাট দিয়ে’ মারধরের অভিযোগ তৃণমূল অঞ্চল সভাপতির বিরুদ্ধে

ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়া বা এসআইআর (SIR) চলাকালীন ফের রাজনৈতিক উত্তাপ ছড়াল মালদহের কালিয়াচকে। মঙ্গলবার সকালে কালিয়াচক ১ নম্বর ব্লকের নওয়াদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের যদুপুর বাজারে শাসকদলের দুই গোষ্ঠীর মধ্যে মারামারির ঘটনা ঘটে। এখানে তৃণমূলের বিএলএ (Booth Level Agent)-কে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ওই দলেরই অঞ্চল সভাপতি এবং তাঁর দলবলের বিরুদ্ধে।

আক্রান্ত বিএলএ-র অভিযোগ:

আক্রান্ত বিএলএ-র নাম আবদুল জাব্বার শেখ। তিনি নওয়াদা যদুপুর অঞ্চল তৃণমূল সভাপতি বকুল শেখ, তাঁর দুই ছেলে বাহাউদ্দিন ও আজিম শেখ, এবং দুই ভাই আবদুল করিম ও আজমাল শেখ-সহ আরও কয়েকজনের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ এনেছেন।

আবদুল জাব্বার শেখ জানান:

“আজ সকালে আমি ডাক্তারের রিপোর্ট নিতে বাড়ি থেকে বেরিয়ে যদুপুর বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসি। সেখানেই বকুল শেখ ও তার দলবল আমার উপর চড়াও হয়। ওরা আমাকে এবং আমার পরিচিত বাবু নামে একজনকেও মারধর করে। বন্দুকের বাট দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করেছে এবং বকুল আমার গলা টিপছিল। ওরা বারবার আমাকে খুন করে ফেলার হুমকি দিচ্ছিল।”

স্থানীয় মানুষজন তাঁকে উদ্ধার করে সিলামপুর গ্রামীণ হাসপাতালে নিয়ে আসে। জীবননাশের হুমকি সত্ত্বেও তিনি অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

শাসকদলের নেতার প্রতিক্রিয়া:

নওয়াদা যদুপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের শাসকদলের সদস্য মহম্মদ আমিনুজ্জামান এই ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, বিএলএ আবদুল জাব্বার সুকদেবপুর বুথে কাজ করছিলেন। কিছু লোক অতর্কিতে তাঁর উপর হামলা চালায়, যার মধ্যে বকুল শেখ ও তার পরিবারের সদস্যরাও ছিলেন।

আমিনুজ্জামান বলেন:

“আমি সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে ছুটে যাই ও জাব্বারকে হাসপাতালে নিয়ে আসি। হামলাকারীরা কোন দল করে জানি না, কিন্তু তারা যে কী প্রকৃতির মানুষ সেটা এলাকার সবাই জানে। আমরা চাই, প্রশাসন আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করুক। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।”

এসডিপিও (কালিয়াচক) ফায়সাল রাজা জানিয়েছেন, এই ঘটনায় কালিয়াচক থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের হয়েছে এবং পুলিশ গোটা ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। এই গোষ্ঠীদ্বন্দ্বের ঘটনায় কালিয়াচক জুড়ে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে।