ভারতের অপারেশন ‘ত্রিশূল’ শুরু, আবার ঘুম উড়ল পাকিস্তানের

পাকিস্তানের শেষের শুরু হয়ে গেল! ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাধ্যমে যে জঙ্গি নিধন যজ্ঞ শুরু করেছিল ভারত, তা যে এখনই বন্ধ হচ্ছে না, পাকিস্তান সীমান্তের কাছে ভারতীয় সেনার নয়া মহড়াই তার প্রমাণ। পাকিস্তানকে খতম করতে ভারতের এবারকার অস্ত্র ‘ত্রিশূল’।

আর্মি (স্থলসেনা), বায়ুসেনা ও নৌসেনা একযোগে গুজরাত ও রাজস্থানে পাক সীমান্তের একদম সংবেদনশীল এলাকায় শুরু করল ‘ত্রিশূল ২০২৫’ মহড়া। আগামী ১০ নভেম্বর পর্যন্ত এই ১২ দিনের ত্রিফলা অপারেশন বিভিন্ন পর্যায়ে চলবে। ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মাত্র ৬ মাস পরেই ভারতের এই বিশাল মহড়া সামরিক বিশেষজ্ঞদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ।

T-90, রাফাল, ব্রহ্মোস— ‘ত্রিশূল’-এর মূল আকর্ষণ কী?
‘ত্রিশূল’-এর মূল আকর্ষণ হল তিন বাহিনীর একযোগে যুদ্ধ প্রস্তুতির প্রদর্শন। ভারতের স্থল, আকাশ ও জলপথের অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র এই মহড়ায় মোতায়েন করা হয়েছে:

স্থলবাহিনী (Army): মোতায়েন করা হয়েছে T-90 যুদ্ধট্যাঙ্ক, অত্যাধুনিক ব্রহ্মোস ও আকাশ মিসাইল সিস্টেম এবং স্বদেশি অ্যাটাক হেলিকপ্টার ‘প্রচণ্ড’।

বায়ুসেনা (Air Force): অংশগ্রহণে রয়েছে বিধ্বংসী রাফাল ও সুখোই-৩০ যুদ্ধবিমান, পাশাপাশি নজরদারির জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে Sea Guardian ও Heron ড্রোন।

নৌবাহিনী (Navy): যুক্ত হয়েছে কলকাতা-ক্লাস ডেস্ট্রয়ার, নিলগিরি-ক্লাস ফ্রিগেট এবং ফাস্ট অ্যাটাক ক্রাফট।

এছাড়াও প্যারা স্পেশাল ফোর্স, মার্কোস (MARCOS) এবং গরুড় কমান্ডো ইউনিট একযোগে স্থল, আকাশ ও সমুদ্র-যুদ্ধের অনুকরণে ‘জয়েন্ট অপারেশন’ পরিচালনা করছে।

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর হুঁশিয়ারি: ‘বদলে যাবে পাকিস্তানের ভূগোল, ইতিহাস’
ভারতের এই মহড়া পাকিস্তানের জন্য বড় চিন্তার কারণ। কারণ এটি তাদের সীমান্তের মাত্র ১০০ কিলোমিটারের মধ্যে শুরু হয়েছে। কয়েক সপ্তাহ আগেই কেন্দ্রীয় প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং পাকিস্তানকে কড়া হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছিলেন, “এবার এমন জবাব দেবে ভারত যে পাকিস্তানের ভূগোল, ইতিহাস বদলে যাবে।”

প্রতিরক্ষামন্ত্রীর সেই সতর্কবার্তার পর পরই সির ক্রিক (Sir Creek)-এর সংবেদনশীল সীমান্ত এলাকায় এই মহড়া শুরু হওয়ায় সামরিক উত্তেজনা তুঙ্গে।

আতঙ্কে NOTAM জারি করল পাকিস্তান!
ভারতের এই ‘ত্রিশূল’ মহড়ায় যে পাকিস্তানের কপালে ঘাম জমছে, তা শেহবাজ শরিফ সরকারের গতিবিধিতেই প্রকাশ পাচ্ছে। যার নির্যাস, পাকিস্তান ইতিমধ্যেই শনিবার একটি NOTAM (Notice to Airmen) জারি করেছে। এর মাধ্যমে দেশের মধ্য ও দক্ষিণ আকাশসীমার কয়েকটি বিমান চলাচল পথ ৪৮ ঘণ্টার জন্য সীমিত করা হয়েছে। দেশের আকাশে এই ‘লকডাউন’ জারি করা স্পষ্ট ইঙ্গিত দেয় যে তারা ভারতের সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে গভীরভাবে চিন্তিত।

এখন সামরিক মহলের প্রশ্ন, ভারত কি খুব শীঘ্রই ‘অপারেশন সিঁদুর ২.০’ কার্যকর করতে চলেছে? কারণ ভারতীয় সেনাকর্তাদের মুখে ইতিমধ্যেই একাধিকবার এই নাম শোনা গিয়েছে। ‘ত্রিশূল’ মহড়া কি সেই চূড়ান্ত প্রস্তুতিরই ইঙ্গিত দিচ্ছে?