“ইস, যদি চাকরি না পেত!” কুর্নুল বাস দুর্ঘটনায় শেষ ২৩ বছরের মেয়ে! পোড়া গন্ধে ভরে আছে অনুশার বাবার চোখ

অন্ধ্রপ্রদেশের কুর্নুলে (Kurnool) মর্মান্তিক বাস দুর্ঘটনার পর এখনও বাতাসে মিশে আছে কালো ধোঁয়া আর পোড়া গন্ধ। শুক্রবার ভোররাতে ঘটে যাওয়া এই ভয়াবহ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৯ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাঁরা এক মুহূর্তে হারিয়ে গেলেন অগ্নিদগ্ধ হয়ে। প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, এই ভয়াবহতার নেপথ্যে শুধু দুর্ঘটনা নয়, বাসে থাকা ২৩৪টি স্মার্টফোনের ব্যাটারির বিস্ফোরণও বড় ভূমিকা নিয়েছে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে জানলা ভেঙে ঝাঁপ দেওয়া এক আহত যাত্রী গুণা সাই বর্ণনা করেছেন সেই ভয়ঙ্কর রাতের চিত্র। তিনি জানান, “সবদিকে ধোঁয়া আর আগুন। ভিতরে কোনো নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল না। কাঁচ ভাঙার জন্য হাতুড়িও পাইনি।” জানা গেছে, দুর্ঘটনার পরই শর্ট সার্কিটের কারণে বাসের দরজা আটকে গিয়েছিল, ফলে ঘুমন্ত যাত্রীরা ভেতরেই বন্দি হয়ে পড়েন।
মৃতদের মধ্যে অন্যতম ২৩ বছরের অনুশা (Anusha), যিনি বেঙ্গালুরুর একটি নামী সংস্থায় কর্মরত ছিলেন। দীপাবলির ছুটি কাটিয়ে কর্মস্থলে ফেরার পথেই মৃত্যু তাঁকে গ্রাস করল। অনুশার বাবার আক্ষেপ, “ইস, যদি মেয়েটা বেঙ্গালুরুতে চাকরি না পেত!” শোকস্তব্ধ মা ফিসফিস করে বলছেন, “ওকে বলেছিলাম দু’দিন থেকে যেতে… যদি থেকে যেত, হয়তো আজ বেঁচে থাকত।”
একইভাবে মাত্র পাঁচ মাস আগে বেঙ্গালুরুতে কাজ শুরু করা মেঘনাথের মৃত্যুতেও তাঁর পরিবারে নেমে এসেছে চরম বিপর্যয়। ছেলের মৃত্যুর খবর শুনে কুর্নুলে পৌঁছে তাঁর মা অবিশ্বাসে ভেঙে পড়েন, “আমার ছেলে এমন করে চলে যেতে পারে না, ও ছাড়া আমি কী করে বাঁচব?”
প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসা তথ্য আরও ভয়াবহ। পুলিশ জানিয়েছে, বাসটি প্রথমে একটি মোটরবাইককে ধাক্কা মারে। বাইকটি বাসের তলায় আটকে গিয়ে জ্বালানি ট্যাঙ্কে আঘাত করলে সঙ্গে সঙ্গে বিস্ফোরণ ঘটে এবং আগুন ধরে যায়।
তবে ফরেনসিক বিশেষজ্ঞদের রিপোর্টে ইঙ্গিত মিলেছে, বাসে আগুন লাগার পর পরই বাসের ভিতরে থাকা ২৩৪টি রিয়েলমি স্মার্টফোনের ব্যাকে আপেক্ষেতো ফোনের ব্যাটারিতে বিস্ফোরণ হয়। আর এই একাধিক বিস্ফোরণের কারণেই আগুনের তীব্রতা মারাত্মকভাবে বেড়ে যায়। পুলিশ জানিয়েছে, প্রায় ৪৬ লক্ষ টাকার এই ফোনগুলি হায়দরাবাদের এক ব্যবসায়ী ই-কমার্স সংস্থা ফ্লিপকার্টের বেঙ্গালুরু শাখায় পাঠানোর জন্য বাসে তুলেছিলেন। সেই চালানই মারণ ফাঁদ তৈরি করল নিরীহ যাত্রীদের জন্য।