Weather: বঙ্গোপসাগরে তৈরি হচ্ছে ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’, ফের নিম্নচাপের সম্ভাবনা, ৬ জেলায় বৃষ্টি

বঙ্গোপসাগরের বুকে সৃষ্টি হলো নতুন এক নিম্নচাপ, যা আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই ভয়ঙ্কর ঘূর্ণিঝড়ের (Cyclone) রূপ নিতে পারে। আন্দামান উপকূলের কাছে জন্ম নেওয়া এই সিস্টেমটি ক্রমশ শক্তিশালী হচ্ছে এবং এর নাম দেওয়া হয়েছে ‘মন্থা’ (Montha)—যার অর্থ ‘ফুল’, আর নামটি দিয়েছে থাইল্যান্ড। এই ঘূর্ণিঝড় অক্টোবর-নভেম্বরের বর্ষা-পরবর্তী ঘূর্ণিঝড় মরশুমে রাজ্যের উপকূলীয় অঞ্চলগুলোর জন্য নতুন উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।
কবে ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হবে?
আলিপুর আবহাওয়া দফতর (IMD) সূত্রে খবর, শুক্রবার ভোরে দক্ষিণ-পূর্ব বঙ্গোপসাগরে নিম্নচাপটি তৈরি হয়েছে। এটি বর্তমানে পশ্চিম-উত্তর-পশ্চিম দিকে এগোচ্ছে এবং এর শক্তি ক্রমাগত বাড়ছে:
শনিবারের মধ্যে: এটি সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হবে।
রবিবার: গভীর নিম্নচাপের রূপ নেবে। বাতাসের গতিবেগ পৌঁছাতে পারে ঘণ্টায় প্রায় ৫৬ কিলোমিটার।
সোমবার সকাল নাগাদ: একটি পূর্ণাঙ্গ ঘূর্ণিঝড়ে (‘মন্থা’) পরিণত হতে পারে। সে সময় বাতাসের সর্বোচ্চ গতিবেগ ৯০ কিলোমিটার পর্যন্ত হতে পারে।
বঙ্গোপসাগরের বর্তমান ২৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস সমুদ্র তাপমাত্রা ঘূর্ণিঝড় তৈরির জন্য অত্যন্ত অনুকূল বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
পশ্চিমবঙ্গে কবে থেকে প্রভাব?
ঘূর্ণিঝড়টি এখনও স্থলভাগ থেকে অনেক দূরে থাকলেও, এর প্রভাবে আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে রাজ্যের আবহাওয়ার বড়সড় পরিবর্তন দেখা যাবে। ২৬ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে রাজ্যে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার পূর্বাভাস জারি করা হয়েছে।
বিশেষ করে দক্ষিণবঙ্গের উপকূলীয় জেলাগুলোতে ভারী বৃষ্টির (Heavy Rain) প্রবল আশঙ্কা:
উপকূলের জেলাগুলি: উত্তর ও দক্ষিণ ২৪ পরগনা, পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুর, হাওড়া এবং ঝাড়গ্রাম।
বৃষ্টির সর্বোচ্চ সময়: আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, ২৮ থেকে ৩০ অক্টোবরের মধ্যে বৃষ্টির তীব্রতা সবচেয়ে বেশি থাকতে পারে।
কলকাতা: আলিপুর আবহাওয়া দফতরের প্রধান এইচ.আর. বিশ্বাস জানিয়েছেন, বর্তমানে কলকাতায় বজ্রপাত-সহ হালকা বৃষ্টির সম্ভাবনা থাকলেও, ঘূর্ণিঝড়ের গতিপথ স্পষ্ট হলে পূর্বাভাসের পরিবর্তন হতে পারে।
গতিপথ ও সতর্কতা
আলিপুর আবহাওয়া দফতরের প্রধান জানিয়েছেন, ঘূর্ণিঝড় ‘মন্থা’ ঠিক কোন দিকে অগ্রসর হবে, ভারতীয় উপকূল নাকি বাংলাদেশের দিকে, তা এখনই নিশ্চিতভাবে বলা যাচ্ছে না। গতিপথ আরও স্পষ্ট হলে পূর্বাভাস পরিবর্তিত হতে পারে।
এই পরিস্থিতিতে মৎস্যজীবীদের জন্য জরুরি সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ২৮ অক্টোবর থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বঙ্গোপসাগর এবং পশ্চিমবঙ্গ উপকূলের সমুদ্র এলাকায় মাছ ধরতে যেতে বারণ করা হয়েছে।
উল্লেখ্য, গত বছরও এই মরশুমে ঘূর্ণিঝড় ‘দানা’ ওড়িশা উপকূলে আছড়ে পড়েছিল, যার প্রভাবে কলকাতাসহ দক্ষিণবঙ্গে ব্যাপক বৃষ্টিপাত হয়েছিল।