দলমত নির্বিশেষে সম্পর্কের বাঁধন! মেদিনীপুর শহরে ৫০০-র বেশি টোটো চালক ও হকারকে গণ-ভাইফোঁটা দিল তৃণমূল

কালীপুজো শেষে বৃহস্পতিবার যখন রাজ্যজুড়ে পালিত হচ্ছে বাঙালির সুপ্রাচীন উৎসব ভাইফোঁটা বা ভাতৃদ্বিতীয়া, তখন মেদিনীপুর শহরে দেখা গেল এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ। শহর মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের উদ্যোগে মেদিনীপুর শহরের স্টেশন রোড এলাকায় আয়োজন করা হয় গণ-ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানের।

দলমত ও জাতপাতের ঊর্দ্ধে নিবিড় বন্ধন
এই গণ-ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানে দলমত এবং জাতপাতের ঊর্দ্ধে উঠে শহরের প্রায় পাঁচ শতাধিক টোটো চালক, হকার ভাইদের তৃণমূলের মহিলা সদস্যরা ভাইফোঁটা দেন। ভাই-বোনের সম্পর্কের নিবিড় বন্ধন এবং মঙ্গল কামনার এই উৎসবকে দলীয় গণ্ডি পেরিয়ে বৃহত্তর সমাজের মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়াই ছিল এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

২০০৮ সাল থেকে ঐতিহ্য
মেদিনীপুর শহরের মহিলা তৃণমূল কংগ্রেসের সদস্যরা মহিলা নেত্রী মৌ রায়ের নেতৃত্বে ২০০৮ সাল থেকে এই গণ-ভাইফোঁটার অনুষ্ঠান শুরু করেছিলেন। সেই ধারাবাহিকতা বজায় রেখে এই বছরও বিপুল উৎসাহের সঙ্গে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। সমগ্র অনুষ্ঠানটি উপস্থাপনা করেন ওয়ার্ড কাউন্সিলর মৌ রায় নিজেই।

আজকের এই অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন— মেদিনীপুর সাংগঠনিক জেলা তৃণমূল সভাপতি তথা বিধায়ক সুজয় হাজরা, শহর সভাপতি মৃণাল চৌধুরী, ৫ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর তথা শহর মহিলা সভানেত্রী মৌ রায়, কাউন্সিলর মৌসুমী হাজরা, কাউন্সিলর ইন্দ্রজিৎ পানিগ্ৰাহী, ডাঃ গোলক মাঝি, রাজ্য সম্পাদক আশীষ চক্রবর্তি, প্রদ্যুৎ ঘোষ, সরকারি আইনজীবী সুকুমার পড়িয়া সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।

দলীয় নেতৃত্ব এবং জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে এই গণ-ভাইফোঁটা অনুষ্ঠানটি কেবল একটি উৎসব নয়, বরং সামাজিক সম্প্রীতি ও ভালোবাসার এক নিদর্শন হয়ে উঠল।