‘মাওবাদী সন্ত্রাসের সাহায্যে ওরা ভোটেও জিতেছে’! বিহারকে ধ্বংস করার জন্য কাদের দায়ী করলেন নরেন্দ্র মোদি?

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দামামা বাজার পর থেকেই প্রচারের ঝড় তুলতে শুরু করেছে বিজেপি। বৃহস্পতিবার ‘মেরা বুথ মেরা মজবুত’-অনুষ্ঠানে বিহারের যুব নেতাদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তিনি আত্মবিশ্বাসের সুরে বলেন, “এই নির্বাচন বিহারের নতুন অধ্যায়ের সূচনা করবে।” একইসঙ্গে তিনি মহাজোটকে তীব্র আক্রমণ করেন।
মহাজোট ‘গাঁঠবন্ধন’ নয়, ‘লাঠবন্ধন’
ইন্ডিয়া জোটের প্রধান শরিকদের বিরুদ্ধে সুর চড়িয়ে প্রধানমন্ত্রী মোদী বলেন:
“যারা নিজেদের গাঁঠবন্ধন বলে দাবী করে, আদপে তাঁরা হল লাঠবন্ধন! ওরা শুধু লাঠি ব্যাবহার করে লড়াই করতে জানে!”
তিনি জোর দিয়ে বলেন, বিহারে স্থিতাবস্থা বজায় থাকলে ঝড়ের বেগে উন্নয়ন হবে, আর সেটাই এনডিএ সরকারের লক্ষ্য।
‘জঙ্গল রাজ’ ও যুব সমাজ
আরজেডি প্রধান লালু যাদবের আমলের ‘জঙ্গলের রাজত্ব’ নীতির সমালোচনা করে মোদী দাবি করেন যে, রাজ্যের মানুষ সেই সময়কে ভুলতে পারবে না। মহাজোটের মুখ্যমন্ত্রী মুখ ঘোষণার পরপরই প্রধানমন্ত্রী এই হুঁশিয়ারি দেন:
“এটা চাণক্যের ভূমি। বিহারের মানুষ কখনও ওদের (আরজেডি)-কে ক্ষমা করবে না।”
তিনি বিহারের যুব সম্প্রদায়কে আহ্বান জানিয়ে বলেন, “প্রত্যেক বুথের সামনে জড়ো হন এবং বয়োজ্যেষ্ঠরা মানুষকে বিহারের রাজনৈতিক ইতিহাস জানান।”
মাওবাদী সন্ত্রাসকে দায়ী করলেন মোদি
বিহারের উন্নয়নে নকশাল ও মাওবাদী সন্ত্রাস কীভাবে বাধা সৃষ্টি করেছে, সেই প্রসঙ্গেও মোদী কথা বলেন। তিনি বলেন:
“কয়েক দশক ধরে, দেশ এবং বিহারের যুবসমাজ নকশালবাদ এবং মাওবাদী সন্ত্রাসের শিকার হয়েছে। এমনকি তারা মাওবাদী সন্ত্রাসের সাহায্যে নির্বাচনেও জয়লাভ করেছে।”
মোদী অভিযোগ করেন, এই সন্ত্রাস স্কুল, কলেজ বা হাসপাতাল খুলতে দেয়নি, বরং নির্মিত হাসপাতালগুলিকে ধ্বংস করেছে এবং শিল্পকে প্রবেশ করতে দেয়নি। তিনি বলেন, ২০১৪ সাল থেকে তাঁর সরকার বিহারকে এই পরিস্থিতি থেকে বের করে আনতে কঠোর পরিশ্রম করেছে।