বিশাল প্রতিশ্রুতি মোদীর! রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে ভারত, ট্রাম্পকে দেওয়া এই আশ্বাস বিশ্বজুড়ে ঝড় তুলল!

বিশ্ব রাজনীতিতে বড়সড় কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিল ভারত। রাশিয়ার কাছ থেকে তেল আমদানি বন্ধ করার বিষয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে আশ্বাস দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। এই পদক্ষেপ ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতিতে রাশিয়ার ওপর অর্থনৈতিক চাপ বাড়াতে সাহায্য করবে বলে মনে করা হচ্ছে।
আমেরিকায় ভারতের প্রাক্তন রাষ্ট্রদূত মীরা শঙ্কর সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশ্যে এনেছেন। তিনি বলেছেন, “প্রধানমন্ত্রী মোদী ট্রাম্পকে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে ভারত আর রুশ তেল কিনবে না।” এরপর ওয়াশিংটনের ওভাল অফিসে এক সংবাদ সম্মেলনে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজেও এই খবর নিশ্চিত করেছেন।
ট্রাম্প বলেন, “ভারত রুশ তেল কেনায় আমি খুশি ছিলাম না, কিন্তু মোদী আজ আমাকে আশ্বাস দিয়েছেন যে তারা আর কিনবে না। এটি একটি বড় ধাপ।” প্রধানমন্ত্রী মোদীর প্রশংসা করে ট্রাম্প বলেন, “মোদী একজন মহান ব্যক্তি, তিনি ট্রাম্পকে ভালোবাসেন।”
ভারত কেন এই সিদ্ধান্ত নিল?
বিশ্বের সবচেয়ে বড় রুশ তেল ক্রেতাদের মধ্যে ভারত অন্যতম। সেপ্টেম্বরে ভারত প্রতিদিন প্রায় ১.৬২ মিলিয়ন ব্যারেল তেল রাশিয়া থেকে আমদানি করত, যা দেশের মোট তেল আমদানির প্রায় এক-তৃতীয়াংশ। ইউক্রেন যুদ্ধের পর রাশিয়া ভারতকে অপেক্ষাকৃত কম দামে (২০-৩০ শতাংশ ছাড়ে) তেল বিক্রি করত, যার ফলে ভারতের বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হচ্ছিল।
বিশ্লেষকদের মতে, মোদীর এই আশ্বাসের পিছনে অর্থনৈতিক চাপ রয়েছে। মার্কিন সরকার ভারতের এই আমদানিকে রাশিয়ার যুদ্ধ অর্থায়নের অংশ বলে মনে করত। এর ফলস্বরূপ, ২০২৫ সালের আগস্টে ভারত থেকে টেক্সটাইল, ফার্মাসিউটিক্যালস এবং আইটি-সহ একাধিক রফতানি পণ্যের ওপর আমেরিকা ২৫ শতাংশ শুল্ক (ট্যারিফ) আরোপ করেছিল। এই ট্যারিফ ভারতের রফতানি খাতকে মারাত্মক আঘাত হানে। মনে করা হচ্ছে, এই শুল্ক প্রত্যাহারের বিনিময়েই মোদী ট্রাম্পকে এই বড় আশ্বাস দিয়েছেন।
ট্রাম্প অবশ্য জানিয়েছেন, এই প্রক্রিয়াটি কিছুটা সময় নেবে, কিন্তু দ্রুতই শেষ হবে। সাম্প্রতিককালে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মোদীর বৈঠক এবং তারপরই ট্রাম্পের এই ঘোষণা, ভারত-মার্কিন সম্পর্ককে নতুন গতি দিতে পারে। তবে ভারতের বৈদেশিক মন্ত্রণালয়ের সতর্কতামূলক বক্তব্য এই কূটনৈতিক পদক্ষেপকে আরও জটিল করে তুলেছে।