দুর্গাপুর গণধর্ষণ, অভিযুক্তদের জেল হেফাজত চেয়ে টিআই প্যারেডের আবেদন পুলিশের! প্রেমিকের ভূমিকা নিয়ে রহস্য

দুর্গাপুরের বেসরকারি মেডিক্যাল কলেজের ডাক্তারি পড়ুয়াকে ‘গণধর্ষণ’-এর ঘটনায় বুধবার আরও চার অভিযুক্তকে দুর্গাপুর মহকুমা আদালতে পেশ করা হলো। তবে এদিন অভিযুক্তদের নিজেদের হেফাজতে চেয়ে আবেদন করেনি পুলিশ। উল্টে, তদন্তে গতি আনতে এবং প্রকৃত অপরাধীদের চিহ্নিত করতে জেল হেফাজতে থাকা অভিযুক্তদের টিআই প্যারেড (Test Identification Parade)-এর মাধ্যমে শনাক্ত করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, বুধবার নির্যাতিতার সহপাঠী তথা প্রেমিক-সহ শেখ ফিরদৌস, শেখ নাসিরউদ্দিন এবং অপু বাউড়ি—এই চার অভিযুক্তকে আদালতে তোলা হয়। বিচারক তাঁদের জেল হেফাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এর আগে মঙ্গলবার শেখ রিয়াজউদ্দিন এবং শফিক শেখ নামে আরও দুই অভিযুক্তকে গ্রেফতার করে আদালতে তোলা হয়েছিল, যাঁদের জেল হেফাজত হয়। ধৃত ছয় অভিযুক্তই দুর্গাপুরের ওই মেডিক্যাল কলেজ সংলগ্ন বিজড়া গ্রামের বাসিন্দা।

টিআই প্যারেডের পরিকল্পনা কেন?

আসানসোল-দুর্গাপুর কমিশনারেটের ডিসিপি (পূর্ব) অভিষেক গুপ্তা জানিয়েছেন, “আমরা আজ চারজনকে আদালতে পাঠিয়েছি। এর পাশাপাশি টিআই প্যারেডের জন্য আদালতের কাছে আবেদন জানানো হয়েছে।”

পুলিশ সূত্রে খবর, নির্যাতিতা তাঁর প্রাথমিক বয়ানে জানিয়েছিলেন, অভিযুক্তদের মধ্যে একজন তাঁকে ধর্ষণ করেছিলেন। বাকি চার অভিযুক্ত এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, নির্যাতিতার সহপাঠী তথা প্রেমিকের কী ভূমিকা ছিল, তা সরকারিভাবে নথিবদ্ধ করতে চাইছেন তদন্তকারীরা।

কী হবে টিআই প্যারেডে: ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে নির্যাতিতা চিকিৎসক তাঁর দেওয়া বয়ান অনুযায়ী মূল ধর্ষককে চিহ্নিত করবেন।

পাশাপাশি, ঘটনার সময় কারা কখন সেখানে উপস্থিত হয়েছিল এবং বাকিদের কার কী ভূমিকা ছিল, সেই সবটাই ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে জানাবেন নির্যাতিতা।

পুরো প্রক্রিয়াটির ভিডিয়োগ্রাফি করা হবে।

আদালতের অনুমতি মিললে, জেলের ভিতরেই এই টিআই প্যারেডের ব্যবস্থা করা হবে বলে জানা গেছে। গণধর্ষণের মতো গুরুতর মামলায় প্রেমিকের জড়িত থাকা এবং পুলিশের এই বিশেষ কৌশল ঘটনাটিকে আরও রহস্যময় করে তুলেছে।