BLO হতে নারাজ শিক্ষকরা! এক ধাক্কায় রাজ্যের প্রায় ১০০০ আধিকারিককে ‘শো-কজ’, বড় পদক্ষেপ নির্বাচন কমিশনের!

আসন্ন নির্বাচনের প্রস্তুতির আবহে রাজ্যে প্রায় এক হাজার বুথ লেভেল অফিসার (BLO)-কে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শো-কজ) পাঠানো হয়েছে বলে খবর। বুথ লেভেল অফিসার হিসেবে কাজে যোগ দিতে অনীহা প্রকাশ এবং নির্বাচনী প্রশিক্ষণ নিতে অস্বীকার করায় রাজ্যের বিভিন্ন জেলার নির্বাচন আধিকারিকরা এই পদক্ষেপ নিয়েছেন। কমিশন সূত্রে জানা গিয়েছে, চলতি বছরের এপ্রিল মাস থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত এই শো-কজ নোটিশ পাঠানো হয়েছে, যার সংখ্যা এখন প্রায় ১০০০-এর কাছাকাছি।
শিক্ষকদের মূল আপত্তি কোথায়?
রাজ্যের বিভিন্ন শিক্ষক সংগঠন-সহ একাধিক সংগঠনের পক্ষ থেকে মুখ্য নির্বাচনী আধিকারিকের দফতরে ডেপুটেশন জমা দেওয়া হয়েছে। তাদের মূল বক্তব্য হলো, যেসব শিক্ষকদের BLO হিসেবে নিয়োগ করা হচ্ছে, তাঁদের অনেকেই এমন স্কুলে কর্মরত যেখানে শিক্ষকের সংখ্যা মাত্র একজন বা দু’জন।
যদি তাঁদের নির্বাচনী কাজে ডেপুটেশনে পাঠানো হয়, তবে স্কুলে পঠন-পাঠন থেকে শুরু করে অন্যান্য কাজ করার মতো কেউ থাকবে না। এর ফলে ছাত্রছাত্রীরা পড়াশোনা থেকে বঞ্চিত হবে।
উঠেছে নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন
BLO-দের একাংশের আরও দাবি, নির্বাচনী কাজের জন্য তাঁদের বিভিন্ন জায়গায় হুমকির মুখে পড়তে হচ্ছে। এর ফলে তাঁরা মারাত্মক নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন। এই সমস্ত কারণ দেখিয়ে ইতিমধ্যেই অনেকেই শো-কজ নোটিশের উত্তর দিয়েছেন।
জেলা প্রশাসন (DEO, ERO এবং সমষ্টি উন্নয়ন আধিকারিক বা BDO) এপ্রিল মাস থেকে শুরু হওয়া বুথ লেভেল অফিসার নিয়োগের সময় থেকেই এই কারণ দর্শানোর চিঠি পাঠানো শুরু করে।
নোটিশে কমিশন স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, যদি তাঁদের কারণ দর্শানোর উত্তরে নির্বাচন কমিশন সন্তুষ্ট না হয়, তবে ১৯৫০ সালের জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ী ওই কর্মীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে। এই বিপুল সংখ্যক কর্মীকে শো-কজ করায় রাজ্য জুড়ে প্রশাসনিক ও শিক্ষক মহলে তোলপাড় শুরু হয়েছে।