৯৭ কোটির ভোটার তালিকা ‘পরিষ্কার’ করতে নামল ইসিআই! ভুয়ো, ডুপ্লিকেট ভোটার খুঁজতে বিশেষ অভিযান শুরু

ভারতের নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে আরও নির্ভুল ও বিশ্বাসযোগ্য করতে ভোটার তালিকায় শুদ্ধিকরণের এক ঐতিহাসিক পদক্ষেপ নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ECI)। ভুয়ো, ডুপ্লিকেট এবং মৃত ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দিতে দিল্লিতে শুরু হয়েছে দুই দিনের জাতীয় সম্মেলন। এই সম্মেলনেই ‘প্যান-ভারত বিশেষ নিবিড় সংশোধন’ (Special Intensive Revision বা SIR) কর্মসূচির চূড়ান্ত রূপরেখা তৈরি করা হচ্ছে।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমারের নেতৃত্বে এই উদ্যোগে সারা দেশের মুখ্য নির্বাচনী অফিসার (সিইও) এবং জেলা নির্বাচনী কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

১০% পর্যন্ত ত্রুটি, কেন এই অভিযান?

ভারতের ভোটার তালিকায় বর্তমানে প্রায় ৯৭ কোটি নিবন্ধিত ভোটার রয়েছেন। নির্বাচন কমিশনের একটি প্রাথমিক সমীক্ষায় দেখা গেছে, এর মধ্যে লক্ষ লক্ষ ভুয়ো এবং ডুপ্লিকেট নাম থাকতে পারে। বিভিন্ন রাজ্যে ভোটার তালিকায় ১০ থেকে ১৫ শতাংশ ত্রুটি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত মিলেছে। মৃত ব্যক্তির নাম তালিকায় থেকে যাওয়া, একই ব্যক্তির একাধিক নিবন্ধন এবং অবৈধ পরিচয়পত্রের মাধ্যমে ভুয়ো ভোটার তৈরি হওয়াই এই সমস্যার মূল কারণ।

প্রধান নির্বাচন কমিশনার স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের লক্ষ্য হলো প্রতিটি ভোটারের নাম সঠিক হওয়া এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি তালিকায় না থাকা। এটি গণতন্ত্রের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।”

কীভাবে চলবে শুদ্ধিকরণ?

এসআইআর কর্মসূচিটি ভারতের ২৮টি রাজ্য এবং ৮টি কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে একযোগে চালানো হবে। এটি নির্বাচন কমিশনের ‘এক ভারত, এক ভোটার তালিকা’ দৃষ্টিভঙ্গির অংশ, যা ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনের সময় প্রথম প্রস্তাবিত হয়েছিল।

প্রযুক্তি ব্যবহার: এই অভিযানে আধার কার্ডের সঙ্গে ভোটার আইডি লিঙ্ক করা, বায়োমেট্রিক যাচাই এবং উন্নত প্রযুক্তির মাধ্যমে গ্রাউন্ড-লেভেল ভেরিফিকেশন করা হবে।

ঘরে ঘরে যাচাই: প্রতিটি জেলায় বুথ লেভেল অফিসার (BLO) দ্বারা ঘরে ঘরে গিয়ে যাচাইয়ের কাজ করা হবে।

জনতার অংশগ্রহণ: সাধারণ মানুষের জন্য একটি অনলাইন পোর্টাল এবং হেল্পলাইন চালু করা হবে, যার মাধ্যমে তারা ভোটার তালিকায় ত্রুটি বা মৃত আত্মীয়ের নাম থাকলে তা রিপোর্ট করতে পারবেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর

এই অভিযানের পেছনে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটও রয়েছে। বিগত নির্বাচনগুলোতে ভুয়ো ভোটার এবং ভোট কারচুপির অভিযোগ বারবার উঠেছে। বিশেষ করে বিহার, পশ্চিমবঙ্গ এবং উত্তর প্রদেশের মতো রাজ্যগুলোতে এই সমস্যা বেশি। সম্প্রতি বিহারের উপমুখ্যমন্ত্রী সম্রাট চৌধুরী মহাগঠবন্ধনকে ‘অনুপ্রবেশকারীদের রক্ষক’ বলে অভিযোগ করে বলেন, ভুয়ো ভোটাররা তাদের ভোটব্যাঙ্ক।

যদিও বিরোধী দলগুলো এই অভিযানের মাধ্যমে কিছু সম্প্রদায়ের ভোটারদের ইচ্ছাকৃতভাবে বাদ দেওয়ার চেষ্টার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে, তবে কমিশন জানিয়েছে, “আমরা কোনো ধর্ম, জাতি বা সম্প্রদায়ের বিরুদ্ধে কাজ করছি না। আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো নির্বাচনী তালিকার বিশুদ্ধতা।” স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কমিশন স্থানীয় পঞ্চায়েত ও নাগরিক সংগঠনের সঙ্গেও কাজ করবে।