২১ ফুট প্রতিমা, ৭০ ভরি সোনা ও ১৫০ কেজি রুপো! নৈহাটির ‘বড় মা’ কালীর ১০২ বছরের পুজোয় লক্ষাধিক ভক্তের ভিড়

মহা ধুমধামে পূজিত হলেন নৈহাটির ঐতিহ্যবাহী ‘বড় মা’ কালী। অরবিন্দ রোডের এই বিখ্যাত কালীপুজো এবছর একশো দুই বছরে পদার্পণ করেছে। দেশের সীমানা ছাড়িয়ে এখন বিদেশেও এই ‘বড় মা’-এর সুখ্যাতি পৌঁছে গিয়েছে।
সোনা-রুপোর সাজে ২১ ফুটের প্রতিমা:
২১ ফুট উচ্চতার নৈহাটির বড় মা কালীর প্রতিমা দেখতে প্রতি বছরের মতো এবারও ভক্তদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। দেবীকে এদিন প্রায় ৭০ ভরি সোনা ও ১৫০ কেজির রুপোর অলঙ্কার দিয়ে সাজানো হয়েছে। এই বিশেষ সাজ এবং প্রতিমার টানে পুজো উপলক্ষে লক্ষাধিক মানুষের ভিড় উপচে পড়েছিল নৈহাটির অরবিন্দ রোডে।
বিশাল এই জনসমাগম সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খেতে হচ্ছে পুলিশ প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবকদের। ভক্তদের ভিড় সামাল দিতে পুলিশ প্রশাসন বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। জানা গিয়েছে, এদিন বড় মা-এর মন্দিরে সাংসদ তথা তৃণমূলের সেকেন্ড ইন কম্যান্ড অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আসার কথা রয়েছে।
যেভাবে শুরু হলো এই পুজো:
জানা যায়, নবদ্বীপের রাস উৎসব দেখতে গিয়ে সেখানে বড় বড় মূর্তি দেখে অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন নৈহাটির নদীয়া জুটমিলের কর্মী তথা বিশিষ্ট সমাজসেবী ভবেশ চক্রবর্তী। তাঁর হাত ধরেই এই বিশাল কালী পুজোর প্রচলন ঘটে। পরবর্তীতে এই বড় কালীই জনমানষে ‘বড় মা’ হিসেবে ছড়িয়ে পড়েন।
ভক্তদের বিশ্বাস, বড় মা-এর কাছে কিছু চাইলে কেউ খালি হাতে ফেরে না। এই বিশ্বাস নিয়েই অগণিত ভক্তরা মায়ের কাছে ছুটে আসেন। পুজোর চারদিন দেবীর বিশেষ পুজো করা হয় এবং প্রত্যেক দিন আলাদা করে মাকে ভোগ নিবেদন করা হয়। অমাবস্যার পর থেকেই নৈহাটির বড় মা-এর কাছে পুজো দেওয়ার পাশাপাশি কয়েক হাজার মানুষ দণ্ডীও কাটেন। মায়ের প্রসাদ পেতেও এদিন সুদীর্ঘ লাইন চোখে পড়েছে।