‘কাটমানি চায়, তাই বিনিয়োগকারী নেই!’ মহমেডান ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট ও তৃণমূলকে নিশানা করে বিস্ফোরক নওশাদ সিদ্দিকী

আর্থিক সংকটে জর্জরিত কলকাতার ঐতিহ্যবাহী ফুটবল ক্লাব মহমেডান স্পোর্টিংয়ের ম্যানেজমেন্ট এবং রাজ্যের শাসকদল তৃণমূলের বিরুদ্ধে এবার মারাত্মক আক্রমণ শানালেন ভাঙড়ের আইএসএফ (ISF) বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী। বিনিয়োগকারী না পাওয়ায় ক্লাবের অস্তিত্ব যখন সংকটে, সেই আবহে তিনি ম্যানেজমেন্টকে ‘হাত তুলে নেওয়ার’ চ্যালেঞ্জ জানিয়ে ক্লাবের হৃতগৌরব ফিরিয়ে আনার আশ্বাস দিয়েছেন।

ম্যানেজমেন্টের বিরুদ্ধে গুরুতর অভিযোগ:

গতকাল মহমেডান ক্লাবের সমর্থকরা সমস্যা নিরসনে নওশাদ সিদ্দিকীর দ্বারস্থ হয়েছিলেন। সমর্থকদের সঙ্গে কথা বলার পর তিনি ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে সরাসরি নিশানা করেন।

নওশাদ সিদ্দিকী বলেন, “পেমেন্ট কারা খেয়েছে? সব দোষ ইনভেস্টরদের দিলে হবে না। সেনার নজরদারিতে না থাকলে মহমেডান স্পোর্টিংয়ের জায়গা বিক্রি করে দিত ম্যানেজমেন্টের কিছু লোক। প্রোমোটিং করে দিত। মহমেডানের ঐতিহ্য ধ্বংস করে দিচ্ছে। সমর্থকদের বলব, এগিয়ে আসুন। এই অচলাবস্থা কাটিয়ে তুলতে হবে।”

শাসকদলের বিরুদ্ধে ‘কাটমানি’র তোপ:

মহমেডানের দুরবস্থার জন্য ম্যানেজমেন্টের পাশাপাশি রাজ্যের শাসকদলকেও দায়ী করেন আইএসএফ বিধায়ক। তিনি রাজনীতিকে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবের বাইরে রাখার দাবি জানিয়ে বলেন, “মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল, মহমেডান শুধু পশ্চিমবঙ্গ নয়, দেশের ঐতিহ্য বহন করছে। এই তিনটি ক্লাবের মধ্যে মহমেডানের এই দুরবস্থা কেন? এই দুরবস্থার জন্য সরকার, শাসকদল ও ম্যানেজমেন্ট এড়িয়ে যেতে পারে না।”

তিনি আরও বিস্ফোরক মন্তব্য করে বলেন, “সব জায়গায় রাজনীতিকরণ হচ্ছে। বিনিয়োগকারীরা বিনিয়োগ করবেন কেন? তাঁরা ব্যবসায়ী। তাঁরা লাভের জন্য বিনিয়োগ করেন। কিন্তু, বিনিয়োগের জন্য কেউ কাটমানি চায়, তাহলে কী করে ইনভেস্টর বিনিয়োগ করবেন?”

ম্যানেজমেন্টকে চ্যালেঞ্জ ও মুখ্যমন্ত্রীর হস্তক্ষেপের দাবি:

মহমেডান ক্লাবের ম্যানেজমেন্টকে চ্যালেঞ্জ জানিয়ে নওশাদ বলেন, “ম্যানেজমেন্ট হাত তুলে নিক। আমরা কথা দিচ্ছি, আমরা দায়িত্ব নিয়ে মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গল ফুটবল মাঠে যেভাবে দাপিয়ে বেড়াচ্ছে, একইরকম দাপট দেখাবে মহমেডান স্পোর্টিং।”

একইসঙ্গে তিনি মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কাছে আবেদন জানান— “মুখ্যমন্ত্রী বিভিন্ন সময় মোহনবাগান, ইস্টবেঙ্গলের সমস্যা মেটাতে যে ভূমিকা পালন করেছেন, সেই একই ভূমিকা পালন করুন মহমেডানের জন্য।” যদিও নওশাদ সিদ্দিকীর এই সমালোচনা নিয়ে মহমেডানের এক কর্তা মহম্মদ কামারউদ্দিন কোনও মন্তব্য করতে চাননি।