“আমরা কি চোর যে জেলে যাব?” স্মার্টফোন কেনার ১০ হাজার টাকা নিয়ে বেঁকে বসলেন আশা কর্মীরা

মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ঘোষণা অনুযায়ী ডেটা এন্ট্রি ও উন্নততর পরিষেবার জন্য অঙ্গনওয়াড়ি ও আশা কর্মীদের (ICDS Workers) স্মার্টফোন কেনার জন্য রাজ্য সরকার প্রত্যেকের অ্যাকাউন্টে ১০ হাজার টাকা করে পাঠাচ্ছে। কিন্তু এই টাকা নিয়েই এবার বাঁধল বড়সড় গণ্ডগোল। সরকার প্রদত্ত গাইডলাইন নিয়ে আপত্তি জানিয়ে তীব্র প্রতিবাদে নামলেন সারা বাংলা অঙ্গনওয়াড়ি ও সহায়িকা কর্মী সমিতির জেলা নেতৃত্বরা।
গাইডলাইন নিয়ে শোরগোল কেন?
রাজ্য সরকার স্মার্টফোন দেওয়ার ক্ষেত্রে একটি নির্দেশিকা জারি করেছে। তাতে স্পষ্ট বলা হয়েছে, ফোন ব্যবহারকালীন সময়ে কর্মীদের গাফিলতির কারণে স্মার্টফোন বা তার সঙ্গে থাকা জিনিস যদি চুরি হয় বা হারিয়ে যায়, তবে তার উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ, যা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ স্থির করবেন, তা আশা কর্মীদের দিতে বাধ্য থাকতে হবে।
এই গাইডলাইন প্রকাশ্যে আসতেই অঙ্গনওয়াড়ি ও সহায়িকা কর্মীদের মধ্যে তীব্র কোলাহল শুরু হয়।
প্রতিবাদে সিডিপিও-এর দ্বারস্থ কর্মী সমিতি:
প্রশাসনের এই গাইডলাইনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে গত শনিবার বালুরঘাট ব্লকের (গ্রামীণ) চাইল্ড ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট অফিসার বা সিডিপিও-র (CDPO) দ্বারস্থ হন সারা বাংলা অঙ্গনওয়াড়ি ও সহায়িকা কর্মী সমিতির জেলা নেতৃত্বরা।
সম্পাদক ছায়া সেন স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আমাদের কোনও সমস্যা নেই। কিন্তু গাইডলাইনে এও লেখা হয়েছে, এর কোনো কিছু লঙ্ঘন হলে আমাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেন? আমরা কি চোর যে আইনানুগ ব্যবস্থা নেবে? আমরা কি জেলে যাব? এই সব আমাদের মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। তা হলে ১০ হাজার টাকার দরকার নেই।”
গাইডলাইন শিথিলের আবেদন:
অঙ্গনওয়াড়ি ও সহায়িকা কর্মী সমিতি আরও অভিযোগ করেছে, “১০ হাজার টাকা নিয়ে এত গাইডলাইন মেনে চলা সম্ভব নয়। এটা কারও পক্ষেই সম্ভব না।” তারা মুখ্যমন্ত্রীকেও অনুরোধ করেছে, যদি গাইডলাইন সামান্য শিথিল করা হয়, তবেই ১০ হাজার টাকা নেওয়া তাদের পক্ষে সম্ভব। না হলে এত আইনি জটিলতার মধ্যে এই টাকা নেওয়া সম্ভব হবে না।
অঙ্গনওয়াড়ি ও সহায়িকা কর্মীদের এই অভিযোগ মিশ্রিত অনুরোধ প্রসঙ্গে সিডিপিও মিঠুন বর্মন জানিয়েছেন, পুজোর ছুটির পরে তাঁদের বক্তব্য শোনা হবে। এই মুহূর্তে অন্য ব্যস্ততা থাকায় এ বিষয়ে তিনি বিস্তারিত কিছু বলতে নারাজ।