‘যা সিমরন, যা…’ ৩০ বছর পরও নস্টালজিক! DDLJ-র ম্যাজিক আজও কেন অমলিন? ফাঁস করলেন সুরকার ললিত পণ্ডিত

“জা সিমরন জা, জি লে আপনি জিন্দেগী…”— এই একটি সংলাপ আজও ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে এক আইকনিক প্রেমের প্রতীক। ১৯৯৫ সালের ২০ অক্টোবর মুক্তি পাওয়া ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া লে যায়েঙ্গে’ (DDLJ) আজ ৩০ বছরের মাইলফলক ছুঁয়েও সমান প্রাণবন্ত এবং নস্টালজিক। কেবল রোমান্টিক ড্রামা হিসেবেই নয়, এই সিনেমার ব্লকবাস্টার সাউন্ডট্র্যাকও জনপ্রিয়তার সুনামি এনেছিল, যা আজও দর্শকদের মন ছুঁয়ে যায়।

সংগীত রচয়িতা জুটি যতীন-ললিতের সাউন্ডট্র্যাক এবং আনন্দ বক্সীর লেখা গান ছিল সেই বছরের সবচেয়ে বেশি রেকর্ড করা বলিউড গান। ‘তুঝে দেখা তো’, ‘মেহেন্দি লাগাকে রাখনা’, ‘হো গয়া হ্যায় তুঝকো তো প্যায়ার সজনা’— প্রতিটি গান আজও সমান জনপ্রিয়।

সুরকার ললিত পণ্ডিত সেই সময়ের স্মৃতিচারণায় গা ভাসিয়ে বলেন, “আমরা এর আগে ‘জো জিতা বোহি সিকন্দর’ বা ‘খিলাড়ি’-তে কাজ করলেও, ‘দিলওয়ালে দুলহানিয়া’ আমাদের জনপ্রিয়তা ও খ্যাতিকে অন্য উচ্চতায় নিয়ে যায়। লতাজির গান, বক্সী সাহেবের লেখা আর যশরাজ ব্যানারে প্রথমবার কাজ— সব মিলিয়ে অসাধারণ এক অভিজ্ঞতা।” তিনি জানান, ছবিটি মুক্তির আগেই তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, এটি তাঁদের কেরিয়ারের সেরা কাজ হতে চলেছে।

সম্প্রতি ব্রিটেনের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমারের সঙ্গে যশ রাজ স্টুডিয়োতে দেখা করার সময়ও ললিত পণ্ডিত ১৯৯৪-৯৫ সালের সেই পরিশ্রমের কথা উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা এই সিনেমার গানের জন্য চার-পাঁচ মাস অক্লান্ত পরিশ্রম করেছি। গানগুলো তৈরি হওয়ার পর জানতাম দর্শকদের মন ছুঁয়ে যাবে, কিন্তু তা ৩০ বছর পরেও দর্শক মনে স্থায়ী জায়গা করে নেবে, সেই আশা করিনি।”

ললিত পণ্ডিত জানান, গান তৈরির সময় সাধারণত যশ চোপড়ার বাড়িতে গানের আসর বসত, যেখানে লতা মঙ্গেশকরজি, আশা ভোঁসলেজি-সহ পরিবারের সকলে উপস্থিত থাকতেন এবং গানের টুকিটাকি সংশোধন করতেন।

এই সিনেমায় লতা মঙ্গেশকর, আশা ভোঁসলে ছাড়াও কণ্ঠ দিয়েছেন কুমার শানু, উদিত নারায়ণ এবং অভিজিৎ ভট্টাচার্য। পণ্ডিত বলেন, “‘তুঝে দেখা তো’ রোমান্টিক ডুয়েটে লতাজি ও কুমার শানু স্বর দেন। এই গান চার্টবাস্টার রেকর্ড তৈরি করেছিল। আদিত্য চোপড়া এই গানে প্রচণ্ড রোমান্স চেয়েছিলেন।”

‘মেহেন্দি লাগাকে রাখ না’, ‘হো গায়া হ্যায় তুঝকো’ এবং ‘রুক জা’-এর মতো জনপ্রিয় গানে কণ্ঠ দেওয়া উদিত নারায়ণ এক মজার ঘটনার কথা বলেন। তিনি জানান, যখন তিনি ‘রুক জা ও দিল দিওয়ানে’ রেকর্ড করতে যাচ্ছিলেন, তখন তাঁর স্টুডিয়োতে পৌঁছাতে চার ঘণ্টারও বেশি দেরি হয়ে গিয়েছিল। কিন্তু শাহরুখ খান রেকর্ডিং স্টুডিয়োতে তাঁর জন্য অপেক্ষা করছিলেন। উদিত যখন স্টুডিয়োতে পৌঁছান, ততক্ষণে শাহরুখ চলে গিয়েছেন। যদিও গানটি রেকর্ড হওয়ার পর এর সাফল্যে সবাই সমস্ত অভিযোগ ভুলে যান।

ললিত পণ্ডিতের মতে, ডিডিএলজে-র গানের সাফল্যের পিছনে এর ‘অরজিনালিটি’ এবং ‘অসাধারণ এনার্জি লেভেল’ ছিল। তাঁর কথায়, “এটা একটা মাস্টারপিস। এমনকী, আমরাও আবার এমন গান তৈরি করতে পারব না। আসলে, মাঝে মাঝে কিছু ম্যাজিক হয়ে যায়।”