“খুব সুন্দর তালিকা হয়েছে!” তৃণমূলের প্রকাশিত নতুন কমিটি নিয়ে খুশি অনুব্রত মণ্ডল, কোথায় কোথায় হল সামান্য রদবদল?

২০২৬ সালের বিধানসভা নির্বাচনের আগে বীরভূমের রাজনীতিতে ফের একবার অনুব্রত মণ্ডলের (Anubrata Mandal) প্রভাব স্পষ্ট হল। রাজ্য তৃণমূল নেতৃত্ব সম্প্রতি যে জেলা, ব্লক ও শহর কমিটির তালিকা প্রকাশ করেছে, তাতে জ্বলজ্বল করছে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের নাম। এর ফলে স্পষ্ট হয়ে গেল যে, জেলবন্দী থাকলেও বীরভূমের সংগঠনের উপর ‘কেষ্ট ফ্যাক্টর’ এখনও অটুট।

তালিকা নিয়ে খুশি অনুব্রত:

রাজ্য কমিটির পাঠানো তালিকা হাতে পেয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন জেলা আহ্বায়ক অনুব্রত মণ্ডল। তিনি মন্তব্য করেন, “খুব সুন্দর তালিকা হয়েছে। যা ছিল তাই রেখেছে, সবাই তৃণমূলের হয়েই কাজ করবে। কালীপুজো, ছটপুজো, জগদ্ধাত্রী পুজো শেষে বৈঠক করব।” তিনি আরও জানান, যুব সংগঠনে বয়সজনিত কারণে কিছু পরিবর্তন হলেও মূল কাঠামোয় তেমন বদল হয়নি।

প্রসঙ্গত, লোকসভা নির্বাচনে ফল খারাপ হলে সংগঠনে রদবদল আসবে বলে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। তবে বীরভূমের ক্ষেত্রে সেই সিদ্ধান্ত কার্যকর হয়নি বলেই মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

কোথায় কোথায় বদল?

২০২১ সালের বিধানসভা নির্বাচনে বীরভূমের ১১টির মধ্যে ১০টি আসনে তৃণমূল জয় পেলেও শহরাঞ্চলে বিজেপির লিড ছিল। লোকসভা নির্বাচনেও একই প্রবণতা থাকায় শহর স্তরে রদবদল এসেছে:

রামপুরহাট শহর: সভাপতি পদ থেকে সৈয়দ সিরাজ জিম্মিকে সরিয়ে আনা হয়েছে সাংসদ শতাব্দী রায়-ঘনিষ্ঠ অর্ণব গঙ্গোপাধ্যায়কে।

বোলপুর: সভাপতি সুকান্ত হাজরার পরিবর্তে দায়িত্ব পেয়েছেন সুব্রত হাজরা ওরফে ডালিম। যুব সভাপতি হয়েছেন সৌরভ চক্রবর্তী।

সিউড়ি: সহ-সভাপতি পদে পুরনো নেতা রমারঞ্জন চট্টোপাধ্যায় ফিরেছেন।

নতুন জেলা কমিটিতে সহ-সভাপতি পদে সৈয়দ সিরাজ জিম্মি, সাধারণ সম্পাদক পদে সৈয়দ মঈনুদ্দিন হোসেন ও সুকান্ত হাজরা এবং সম্পাদক পদে রামপুরহাটের সুশান্ত মুখোপাধ্যায় এসেছেন।

‘ভারসাম্যের রাজনীতি’:

যদিও ব্লক সভাপতির পদে বড় পরিবর্তন হয়নি, তবু সিউড়ি ২ নম্বর ব্লকে দেখা গেছে ‘ভারসাম্যের রাজনীতি’। এই ব্লকে কাজল শেখের পাল্লা ভারী হলেও, সভাপতি পদে রাখা হয়েছে নুরুল ইসলামকে, যিনি অনুব্রত-ঘনিষ্ঠ অশ্বিনী মণ্ডলকে সরিয়ে এসেছেন। এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে স্পষ্ট যে জেলা কমিটিতে অনুব্রত-ঘনিষ্ঠদের রাখা হলেও কিছু পদে অন্য শিবিরের প্রভাবও নিশ্চিত করা হয়েছে।

তৃণমূল সূত্রে খবর, এই পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রমাণিত যে অনুব্রত মণ্ডলের প্রশাসনিক দখল এখনও অক্ষুণ্ণ। তাঁর অনুপস্থিতিতেও বীরভূমে কার্যত তাঁরই নির্দেশনায় চলছে সংগঠনের চাকা।