‘১০০ দিনের টাকা’ নয়, কেন আক্রমণ? দক্ষিণ ২৪ পরগনায় হামলার পর আসল কারণ ফাঁস করলেন শুভেন্দু অধিকারী

রবিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনায় কালীপূজা উদ্বোধন করতে গিয়ে রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী সাতটি স্থানে আক্রমণের মুখে পড়েন। এই ঘটনার জেরে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক শুরু হয়েছে। তৃণমূল কংগ্রেস এই হামলার কারণ হিসেবে ১০০ দিনের কাজের টাকা নিয়ে স্থানীয়দের ক্ষোভকে দায়ী করলেও, শুভেন্দু অধিকারী সেই অভিযোগ খারিজ করে দিয়ে হামলার পিছনে অন্য কারণের কথা খোলসা করেছেন।

শুভেন্দুর দাবি: অবৈধ অনুপ্রবেশকারী ও ‘SIR’ আতঙ্ক
শুভেন্দু অধিকারী তৃণমূলের অভিযোগ সরাসরি খারিজ করে দিয়ে দাবি করেছেন, এই হামলাকারীরা হলেন ‘অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিম অনুপ্রবেশকারী’ এবং তাঁরা নির্বাচন কমিশনের ‘SIR’ (Special Summary Revision) প্রক্রিয়া নিয়ে আতঙ্কিত।

হামলার প্রকৃত কারণ খোলসা করে তিনি বলেন:

“আজ দক্ষিণ ২৪ পরগনা জেলায় আমাকে অবৈধ বাংলাদেশি মুসলিমরা বারংবার আক্রমণ করে, অন্তত সাতটি স্থানে আমাকে হামলার সম্মুখীন হতে হয়েছে।”

“এই অঞ্চলটি বাংলাদেশের নিকটবর্তী হওয়ায় তৃণমূলের মদতে এইসব অনুপ্রবেশকারীরা অবৈধ ভাবে এখানে বাস করছে। এরা আসলে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী এবং নির্বাচন কমিশনের ‘SIR’ প্রক্রিয়া নিয়ে এরা আতঙ্কিত, তাই এরা আতঙ্কগ্রস্ত হয়ে এভাবেই ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ করছে।”

তৃণমূলের অভিযোগ ও শুভেন্দুর পাল্টা:
শুভেন্দু অধিকারী স্পষ্ট জানান, তিনি কোনো রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাননি, স্রেফ একজন হিন্দু হিসেবে ধর্মীয় উৎসবে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। তিনি অভিযোগ করেন, তৃণমূলের জেলা পরিষদ সদস্য রেখা গাজি এবং এসপি কোটেশ্বর রাওয়ের সহযোগিতায় এই পরিকল্পিত হামলা চালানো হয়েছে।

অন্যদিকে তৃণমূল এই হামলার নেপথ্যে ১০০ দিনের কাজের বকেয়া টাকা নিয়ে মানুষের ক্ষোভকে দায়ী করেছিল। তবে শুভেন্দু অধিকারী সেই তত্ত্ব সম্পূর্ণ উড়িয়ে দিয়েছেন।

হামলার মুখেও তৃণমূলকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বিরোধী দলনেতা বলেন, তাঁকে এভাবে ভয় দেখিয়ে আটকানো যাবে না। তিনি জগদ্ধাত্রী পুজোর সময় আবার এই এলাকায় আসবেন বলেও জানিয়েছেন।