‘মস্তানি করতে যাবেন না’! তৃণমূলের নির্দেশে কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলির আশঙ্কা, BLO বিতর্ক নিয়ে পাল্টা সুর চড়াল বিজেপি

রাজ্যজুড়ে ভোটার তালিকার বিশেষ সংশোধনের (Special Summary Revision – SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীনই নতুন বিতর্কে জড়ালেন বাঁকুড়ার তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী। সিমলাপালে বিজয়া সম্মিলনীর মঞ্চ থেকে তিনি দলীয় কর্মীদের বুথ লেভেল অফিসারদের (BLO) সঙ্গে বাড়ি বাড়ি পৌঁছে যাওয়ার এবং অন্যের এন্যুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন। তাঁর এই মন্তব্যের পরই বিতর্কের ঝড় উঠেছে।
সাংসদের বিতর্কিত নির্দেশিকা:
তৃণমূল সাংসদ অরূপ চক্রবর্তী তাঁর ভাষণে আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “বাংলাতে ১ কোটি মানুষের ভোটার তালিকা থেকে নাম যাতে বাদ যায়, তার জন্য পরিকল্পনা চলছে।” এরপরই তিনি দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে স্পষ্ট নির্দেশ দেন:
“বুথে যাঁরা তৃণমূল কংগ্রেসের কর্মীরা আছেন, তাঁদের অনুরোধ করব, তৈরি থাকুন। BLO-রা যখন সঙ্গে যাবেন, আপনারা সঙ্গে যাবেন। যে ভোটার থাকবে না, তার ফর্মটা নিয়ে নেবেন। তার ফর্মটা ফিলআপ করে আপনারা জমা দেবেন। কেউ যেন ভোটার লিস্ট থেকে বাদ না পড়ে।”
তিনি আরও বলেন, “নাগরিক কমিটি তৈরি করুন। আমার গাঁয়ের কোনও লোকের নাম বাদ দেওয়া যাবে না। ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন হবে, পাড়ায় পাড়ায় নাগরিক কমিটি হবে। কারও ভোটার লিস্ট থেকে নাম বাদ দিতে দেব না।”
বিজেপির তীব্র প্রতিক্রিয়া:
তৃণমূল সাংসদের এই মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে বিজেপি। প্রাক্তন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী তথা বিজেপি নেতা সুভাষ সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
সুভাষ সরকার বলেন, “BLO-দের সঙ্গে দলীয় কর্মীরা যাবে কেন? মস্তানি করতে যাবে? সকলকে বলছি, BLO কিন্তু শুধু জেলা প্রশাসনের অধীনে নন, জেলা প্রশাসন সহ গোটা প্রশাসনটাই নির্বাচন কমিশনের অধীনে। দয়া করে ওখানে মস্তানি করতে যাবেন না।”
তিনি আরও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, “ওখানে গিয়ে মস্তানি করলে সেখানে কিন্তু কেন্দ্রীয় বাহিনীর গুলিও চলতে পারে, ডান্ডাও চলতে পারে। কোনও রকম মস্তানি ঠিক হবে না। অন্য কেউ ফিলআপ করবেন মানে? এটা কি মজা হচ্ছে?”
বিজেপির কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদারও বলেন, “তৃণমূলের বিধায়ক, নেতৃত্ব যেভাবে SIR নিয়ে যেভাবে ধমকানো, চমকানো, রক্ত গঙ্গা বইয়ে দেওয়ার মতো শব্দবন্ধ ব্যবহার করেছেন, বোঝা যাচ্ছে, BLO-দের সঙ্গে গিয়ে ঝামেলা পাকানোর চেষ্টা হবে তৃণমূলের তরফে।”
থামছে না বিতর্ক:
উল্লেখ্য, অরূপ চক্রবর্তীর আগে বীরভূমের লাভপুরের তৃণমূল বিধায়ক অভিজিৎ সিংহও একই সুর শোনা গিয়েছিল। তিনি বলেছিলেন, “যিনি আমার দলের BLA আছেন, ওই BLO-র সঙ্গে আপনাকেও বাড়ি বাড়ি যেতে হবে।”
বারাসাত সাংগঠনিক জেলার তৃণমূলের শ্রমিক সংগঠনের সভাপতি তাপস দাশগুপ্তও BLO-দের ‘গন্ডগোল পাকাতে পারে’ বলে দলীয় কর্মীদের সতর্ক করেছিলেন। সব মিলিয়ে SIR আবহে, নিরপেক্ষ সরকারি কর্মচারী BLO-দের ঘিরে শাসক দলের নেতাদের লাগাতার মন্তব্য রাজ্যের রাজনৈতিক তরজার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে।