শব্দবাজির তাণ্ডবে আতঙ্ক! ‘খাওয়া-দাওয়া বন্ধ করে খাটের তলায়’, কালীপুজোর আগে চরম উদ্বেগে মিমি-অনিন্দিতারা

দীপাবলি যতই আলোর উৎসব হোক না কেন, উৎসবের দিন শেষে তা পরিণত হয় বিকৃত শব্দবাজির তাণ্ডবে। আর ঠিক সেই সময়েই ভয়, চিন্তা আর উদ্বেগের মধ্যে থাকেন সেই সকল মা-বাবারা, যাঁদের ঘরে রয়েছে চারপেয়ে সন্তান। শুধু অবলা প্রাণীরা নয়, প্রবীণ মানুষ থেকে কোলের শিশু পর্যন্ত সকলেই এই একটি দিন বাড়িতে চরম দুর্ভোগে থাকেন। যে কারণে কালীপুজো ও দিওয়ালি আসার আগেই উৎকণ্ঠায় রয়েছেন খুদে ও পোষ্যদের অভিভাবকরা।
সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিমধ্যেই অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তী, অনিন্দিতা রায়চৌধুরী এবং পারমিতা মুখোপাধ্যায়ের মতো তারকারা শব্দবাজির কারণে পোষ্যদের ভোগান্তি নিয়ে তাঁদের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
‘ইন্দু’ ও ‘রক্তবীজ’ খ্যাত অভিনেত্রী পারমিতা মুখোপাধ্যায় ইটিভি ভারতকে বলেন, “খুব দুঃখের সঙ্গে জানাচ্ছি যে এই সময়ে আমার পোষ্যদের অবস্থা খুব খারাপ। একটা (কুকুর) খাটের তলা থেকে বেরোচ্ছে না, খাওয়া-দাওয়া ঠিক করে করছে না।”
বাড়ির পোষ্যদের চরম দুর্ভোগ
নিজের বাড়িতে রেসকিউ করা ইন্ডি কুকুর, ল্যাব এবং একটি বিড়াল আছে জানিয়ে অভিনেত্রী বলেন, শব্দবাজি ফাটানোর প্রবণতা বেশি থাকায় তিনি লেকগার্ডেন্সের মতো এলাকায় খুব রাগ অনুভব করেন। তাঁর কথায়, “খুব রাগ হয় আমার এই সময়। রাস্তায় বেরিয়ে যাই ঝগড়া করি লোকের সঙ্গে, যারা বাজে রকমভাবে বাজি ফাটায় বাড়ির সামনে। কিন্তু কী করব! উপায় নেই।”
তিনি জানান, তিনি জানলা-দরজা বন্ধ রাখেন এবং সারমেয়দের কানে তুলো গুঁজে দেন। কিন্তু তারপরেও তাদের খুব কষ্ট হয়। ভয়ে রাতে তাদের হাঁটানোও বন্ধ রাখতে হয়। তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মানুষ মনে করে পৃথিবীটা তাঁদের। ভুলে যায় অবলারাও সেই তালিকায় রয়েছে। এই বোধটা কী করে আসবে জানি না।”
রাস্তায় কুকুরের ল্যাজে পটকা বেঁধে দিয়ে বিকৃত আনন্দ উপভোগের প্রসঙ্গে পারমিতা মুখোপাধ্যায় বলেন, “ওই সব যদি আমার চোখে পড়ে কানের গোড়ায় দেব। আমার চোখে এমন জিনিস পড়লে তাঁর জীবন শেষ, সে যেই হোক না কেন।”
তিনি জানান, ঝড়-জল-বৃষ্টি বা এমন বিপদের সময় তিনি নিজের বাড়ির একতলার দরজা খুলে রেখে দেন, যাতে অবলা প্রাণীরা আশ্রয় নিতে পারে।
অভিনেত্রী মিমি চক্রবর্তীও সোশ্যাল মিডিয়ায় আবেদন করে বলেন, “আমার মনে হয় আসলে আমরা কোনটা ঠিক, জানি। যদি এই পৃথিবীতে সকলের যখন সবকিছু বেছে নেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে, তাহলে কেন ‘কাইন্ডনেস’ বা মানবিকতাকে বেছে নেবেন না? স্পেশালি যারা অবলা তাদের জন্য?”
অন্যদিকে অভিনেত্রী অনিন্দিতা রায়চৌধুরী, যিনি এক কন্যা সন্তানের মা এবং যাঁর বাড়িতে প্রবীণ মানুষও আছেন, তিনিও শব্দবাজি না ফাটানোর আবেদন করে সোশ্যাল মিডিয়ায় লেখেন, “আগে কি শব্দবাজি ফাটানো হতো না?… আমার মনে হয় মানুষের কিছু চারিত্রিক বৈশিষ্ট্য বেশি ছিল তখন, যেমন সহিষ্ণুতা, সহযোগিতা, সহানুভূতি, মানবিকতা, মূল্যবোধ!”