কঙ্কালসার রূপেই জাগ্রত দেবী! দামোদরের গর্ভ থেকে উদ্ধার হওয়া কাঞ্চননগরের ‘কঙ্কালেশ্বরী’র রহস্য কী?

লোককথা আর ইতিহাসের মিশেলে পূর্ব বর্ধমানের কাঞ্চননগরে আজও জাগ্রত প্রায় আড়াইশো বছরের পুরনো কঙ্কালেশ্বরী কালীমন্দির। ন’টি চূড়াবিশিষ্ট এই টেরাকোটা মন্দিরটির প্রতিষ্ঠাকাল অজানা হলেও, এর দেবী মূর্তি ঘিরে জড়িয়ে রয়েছে এক অলৌকিক কাহিনি।
কথিত আছে, একসময় এই মন্দিরে কোনো বিগ্রহ ছিল না। জনশ্রুতি অনুযায়ী, সাধক কমলানন্দ পরিব্রাজক স্বপ্নাদেশ পান যে দামোদর নদের তীরে দেবী অবস্থান করছেন। এই স্বপ্নাদেশ পেয়ে বাংলা ১৩২৩ সালে সাধক কমলানন্দ দামোদরের গর্ভ থেকে এক প্রস্তরখণ্ড উদ্ধার করেন। সেই পাথর খোদাই করেই নাকি দেবী মূর্তিটি তৈরি ছিল, যা পরবর্তীকালে মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়।
দেবী এখানে ‘কঙ্কালেশ্বরী কালী’ নামে পরিচিত। দেবীর এই নামকরণ হয়েছে তাঁর কঙ্কালসার রূপের কারণে। কালো ব্যাসল্ট পাথরে তৈরি অষ্টভূজা এই বিগ্রহে দেবীর শরীরের অস্থি, শিরা এবং ধমনীগুলি সুস্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। বিশেষত, দেবী এখানে শায়িত শিবের নাভি থেকে উৎপন্ন পদ্মের ওপর আসীন। তাঁর চালচিত্রে হাতির প্রতিকৃতি রয়েছে।
ধারণা করা হয়, এই দেবীরূপটি সম্ভবত বৌদ্ধ বা পাল যুগের। দেবী এখানে চামুণ্ডা মতে পূজিত হন এবং অনেকে এটিকে বৌদ্ধ চামুণ্ডার রূপ বলেও উল্লেখ করেন। বন্যার জল সরে যাওয়ার পর নদীগর্ভ থেকে এই মূর্তিটি মিলেছিল বলে জানা যায়। মূল মূর্তির ডান দিকের উপরে রয়েছে ত্রিশূল এবং পায়ের দু’পাশে দেখা যায় দু’টি শিয়াল। মজার বিষয় হলো, মূল বিগ্রহটি উদ্ধারের কিছুদিন পর আরও একটি পুকুর থেকে ছোট একটি মূর্তি উদ্ধার করে সেটিও মন্দিরে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
সারা বছরই এই মন্দিরে নিত্য পুজো হয়। তবে দীপান্বিতা কালীপুজোর সময় এখানে বিশেষ পুজোর আয়োজন করা হয়। সেই সময় প্রায় ১ লক্ষেরও বেশি ভক্তের সমাগম ঘটে। কালীপুজোর দুদিন ধরে চলে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ভোগের আয়োজন। এছাড়া, প্রতিদিন দুপুরে মাত্র ১০ টাকার বিনিময়ে অন্ন ভোগ এবং রাতে ৫ টাকার বিনিময়ে রুটি খাওয়ানোর ব্যবস্থা রয়েছে মন্দিরে।