করাচির বাসিন্দা কীভাবে নৈহাটির ভোটার? ২৮ বছর ধরে ভারতে ‘অবৈধ বসবাস’! বিস্ফোরক দিলীপ ঘোষ

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচন যত এগিয়ে আসছে, ততই উত্তরোত্তর উত্তপ্ত হচ্ছে বাংলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি। তৃণমূল এবং বিজেপির মধ্যেকার সংঘাত এখন দৈনিক রোজনামচা। এর মধ্যেই উত্তর ২৪ পরগনার নৈহাটিতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে বিতর্ক দানা বেঁধেছে। অভিযোগ, নৈহাটি বিধানসভার এ টি ঘোষ লেনের বাসিন্দা সালেয়া খাতুন নামের এক মহিলা প্রায় ২৮ বছর ধরে অবৈধভাবে ভারতে বসবাস করছেন। শুধু তাই নয়, তিনি করাচির বাসিন্দা হওয়া সত্ত্বেও ২০০৮ সাল থেকে এই রাজ্যে ভোটার কার্ড বানিয়ে ভোটও দিচ্ছেন।

এই ঘটনা সামনে আসতেই বিস্ফোরক মন্তব্য করেছেন বিজেপি নেতা দিলীপ ঘোষ। তিনি সরাসরি তৃণমূল কংগ্রেসকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে বলেছেন, ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধনে (Special Intensive Revision বা SIR) তৃণমূলের আপত্তির প্রধান কারণ হলো এই ধরনের অবৈধ ভোটারদের উপস্থিতি।

দিলীপ ঘোষ তাঁর সোশ্যাল মিডিয়াতে একটি ভিডিও বার্তা তুলে ধরে তৃণমূলকে দায়ী করেছেন। তিনি স্পষ্ট জানিয়েছেন, রাজ্যে ভোটার তালিকার নিবিড় সংশোধন হলে এই সমস্ত অবৈধ অনুপ্রবেশকারীরা আর ভোট দিতে পারবে না, যার ফলস্বরূপ তৃণমূলের ভোটব্যাঙ্কে বড়সড় ধস নামতে পারে। যদিও বিজেপির বর্ষীয়ান নেতা হওয়া সত্ত্বেও বর্তমানে দলে তাঁর অবস্থান কিছুটা ব্রাত্য, তবুও তাঁর এই মন্তব্য রাজ্য-রাজনীতিতে তীব্র ঢেউ তুলেছে।

দিলীপ ঘোষের এই ভিডিও বার্তার পর সাধারণ মানুষের মধ্যে থেকেও তীব্র প্রতিক্রিয়া উঠে এসেছে। তাঁদের অভিযোগ, শুধু নৈহাটি নয়, জেলা এবং খোদ কলকাতাতেও এমন অসংখ্য অবৈধ অনুপ্রবেশকারী আছেন, যারা দিনের পর দিন অবৈধভাবে ভোট দিয়ে রাজ্যের শাসক দলকে জিতিয়ে চলেছেন। পাশাপাশি, তাঁরা রাজ্য সরকারের ‘মুসলিম তোষণ’-এর কড়া নিন্দা করে বলেছেন, এই ধরনের অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় থেকে বাংলার ক্ষতি করছেন এবং রাজ্য সরকার তাদের ভাতা ও সবরকমের সুযোগ সুবিধা দিয়ে পোষণ করছে। অনেকে উদাহরণ টেনে এনে বলেছেন, মুজিব হত্যার অন্যতম চক্রী মাজেদও দীর্ঘদিন ধরে নাম ভাঁড়িয়ে এই রাজ্যে বসবাস করেছে, যা রাজ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় প্রশ্ন তোলে।

রাজনৈতিক মহলের একাংশ এই পরিস্থিতিতে সরব হয়ে বিবৃতি দিয়েছেন যে, কেন্দ্রীয় সরকার বারবার সীমান্ত অঞ্চলে বেড়া দেওয়ার জন্য চিঠি দিলেও জমি অধিগ্রহণের বিষয়ে রাজ্য সরকার কোনো আগ্রহ দেখায়নি। তাঁদের মতে, এর মূল কারণ হলো এই অবৈধ অনুপ্রবেশকারীদের রাজ্যে অবাধে স্থান দেওয়া। সীমান্তে বেড়া পড়লে এবং সেখানে প্রতিরক্ষা বাহিনী মোতায়েন হলে এই অনুপ্রবেশকারীরা বাংলায় প্রবেশ করতে পারবে না, তাতে তৃণমূলের রাজনৈতিক স্বার্থ ক্ষুণ্ণ হবে।

সামনে নির্বাচন, এই পরিস্থিতিতে করাচির এই বাসিন্দাকে নিয়ে বাংলার সরকার কি সিদ্ধান্ত নেয় এবং এই বিতর্ক রাজনীতির মোড়কে কোন দিকে বাঁক নেয়, সেদিকেই এখন নজর রাখছে ওয়াকিবহাল মহল।