মধ্যহিংলীতে ‘খুনে হনুমান’-এর চরম তাণ্ডব! কামড়ে-আঁচড়ে মাংস খুবলে নিল, একদিনেই আহত ১৫ জন

হনুমানের হামলার দাপটে কার্যত যুদ্ধক্ষেত্রের চেহারা নিয়েছে পূর্ব মেদিনীপুরের মহিষাদলের মধ্যহিংলী গ্রাম। একদল হনুমানের অস্বাভাবিক ও হিংস্র আচরণে একদিনেই অন্তত ১৫ জন গ্রামবাসী গুরুতর আহত হয়েছেন। হনুমান আতঙ্কে তটস্থ হয়ে পড়েছেন এলাকার মানুষজন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বেশ কিছুদিন ধরেই হনুমানের এই দলটি আশেপাশের এলাকায় ঘুরছিল। সম্প্রতি তারা গ্রামে ঢুকে পথচারীদের উপর আক্রমণ শুরু করে। হামলার তীব্রতা এতটাই ছিল যে, কামড়ে-আঁচড়ে শরীরের মাংস পর্যন্ত খুবলে নিয়েছে ‘খুনে’ হনুমান। আহতদের দ্রুত মহিষাদল বাসুলিয়া হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। তবে গুরুতর জখম একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে তমলুক জেলা হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।
বনকর্মীরা এই ঘটনার পর গ্রামে এসেছেন এবং হনুমানটিকে ধরতে ফাঁদ পেতেছেন। কিন্তু এখনও তার নাগাল পাওয়া যায়নি।
বন দফতরের কর্মীরা জানিয়েছেন, প্রজনন ঋতুতে হনুমানের এমন আক্রমণাত্মক হওয়া অস্বাভাবিক নয়। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা মনে করছেন, দল থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ার কারণেই হনুমানটি এমন অত্যাচার করছে।
স্থানীয় মানুষজনের আতঙ্ক দ্বিগুণ হওয়ার আরও একটি কারণ আছে। গত ফেব্রুয়ারি মাসে এই এলাকাতেই একটি মারমুখী হনুমান হাসপাতাল ও বাড়িতে ঢুকে মানুষকে কামড়াচ্ছিল। সেই সময় পরিস্থিতি সামলাতে বনকর্মীদের ট্র্যাঙ্কুলাইজার বন্দুক ব্যবহার করতে হয়েছিল। এবারও ধীরে ধীরে সেই একই অবস্থার দিকে পরিস্থিতি যাচ্ছে বলে আশঙ্কা করছেন মধ্যহিংলী গ্রামের বাসিন্দারা। দ্রুত এই হনুমানটিকে ধরার জন্য বন দফতরের কাছে আর্জি জানিয়েছেন তাঁরা।