মধ্যপ্রদেশে ফের জাতি বিদ্বেষের চরম নিদর্শন! খনির বিরোধিতা করায় দলিত যুবকের গায়ে প্রস্রাব, মাকেও মারধর

মধ্যপ্রদেশে জাতিগত অসহিষ্ণুতা ফের একবার চরম আকার ধারণ করল। অবৈধ খনি বা নুড়ি পাথর উত্তোলনের প্রতিবাদ করায় এক দলিত যুবককে নৃশংসভাবে মারধর ও চরম অপমান করার অভিযোগ উঠল খোদ গ্রামের সরপঞ্চ ও তাঁর পরিবারের বিরুদ্ধে। অভিযোগ, মারধরের সময় ওই যুবকের গায়ে প্রস্রাব করে দেন অভিযুক্তদের মধ্যে একজন। ঘটনাটি কাঠনি জেলার, যা রাজ্যের গ্রামীণ এলাকায় জাতিগত বিদ্বেষের ক্রমবর্ধমান প্রবণতাকে নতুন করে সামনে এনেছে।

পুলিশ সূত্রে খবর, আক্রান্ত যুবকের নাম রাজকুমার চৌধুরী (৩৬)। গত ১৩ অক্টোবর সন্ধ্যায় রামগড়হা পাহাড়ের কাছে সরকারি জমিতে অবৈধভাবে নুড়ি পাথর তোলা হচ্ছিল। রাজকুমারের অভিযোগ, এই কাজের তত্ত্বাবধানে ছিলেন গ্রামের সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে এবং তাঁর সহযোগীরা। রাজকুমার এর প্রতিবাদ জানালে প্রথমে তাঁকে হুমকি দেওয়া হয় এবং পরে জাতিবিদ্বেষমূলক মন্তব্য করে অপমান করা হয়।

এর পরেই শুরু হয় চরম অত্যাচার। রাজকুমারের অভিযোগ, বাড়ি ফেরার পথে সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে, তাঁর ছেলে পবন পাণ্ডে, ভাইপো সতীশ পাণ্ডে এবং আরও কয়েকজন মিলে তাঁকে ঘিরে ধরে। লাঠি ও লোহার রড দিয়ে বেধড়ক মারধর করা হয়। রাজকুমারের দাবি, “আমাকে মারধরের সময় ওরা জাতিবিদ্বেষী গালাগাল দিয়েছে। আমার মা আমাকে বাঁচাতে এলে তাঁকেও চুলের মুঠি ধরে টেনে মাটিতে ফেলে মারা হয়। এর পর রামানুজ পাণ্ডের ছেলে আমার গায়ের উপর প্রস্রাব করে। গ্রামের লোকের সামনে আমাকে চরম অপমান করা হয়।”

আক্রান্ত যুবককে হাসপাতালে চিকিৎসার পর থানায় নিয়ে আসা হয়। কাঠনির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সন্তোষ দেহারিয়া জানিয়েছেন, অভিযোগের ভিত্তিতে চারজনের নামে এফআইআর দায়ের করা হয়েছে। মারধর ও তফসিলি জাতি ও উপজাতি (নির্যাতন প্রতিরোধ) আইন অনুযায়ী মামলা রুজু করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত চলছে।

তবে অভিযুক্ত সরপঞ্চ রামানুজ পাণ্ডে অবশ্য সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তাঁর দাবি, “এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কোনও অবৈধ খনন হচ্ছিল না। আমরা পঞ্চায়েত ভবনের সংস্কারের জন্য সরকারি জমিতে গ্রাভেল তুলছিলাম।”

উল্লেখ্য, এই ঘটনাটি ২০২৩ সালের জুলাই মাসের সিধি-কাণ্ডের ভয়ঙ্কর স্মৃতি ফিরিয়ে এনেছে, যেখানে বিজেপি-ঘনিষ্ঠ প্রবেশ শুক্ল নামে এক ব্যক্তি এক আদিবাসী যুবকের উপর প্রস্রাব করেছিলেন। সে সময়ও দেশজুড়ে প্রবল নিন্দা ও সমালোচনার ঝড় উঠেছিল। জাতীয় অপরাধ নথি ব্যুরোর (NCRB) রিপোর্ট অনুযায়ী, দেশে তফসিলি জাতির বিরুদ্ধে অপরাধের সংখ্যা ক্রমশ বাড়ছে। গত বছর ভারতে মোট ৫৭,৭৮৯টি এমন ঘটনা নথিভুক্ত হয়, যার মধ্যে শুধুমাত্র মধ্যপ্রদেশেই ৮,২৩২টি মামলা রুজু হয়েছে। এই তালিকায় মধ্যপ্রদেশ এখন উত্তরপ্রদেশ ও রাজস্থানের পরেই রয়েছে।