রাহুলের ফোন সত্ত্বেও জট কাটল না! শেষ মুহূর্তে এককভাবে প্রার্থী দিল কংগ্রেস; দেখুন প্রথম তালিকা

বিহার বিধানসভা নির্বাচনের দিনক্ষণ দোরগোড়ায়। আসন বণ্টন নিয়ে জোটসঙ্গী রাষ্ট্রীয় জনতা দল (RJD) এবং বামেদের সঙ্গে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায়নি। এই অস্বস্তির আবহে মহাজোটের শরিকদের কার্যত অন্ধকারে রেখেই এককভাবে ৪৮ জন প্রার্থীর নাম-সহ প্রথম তালিকা ঘোষণা করল কংগ্রেস। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত এই তালিকায় প্রথম ও দ্বিতীয় দফার জন্য মনোনীত প্রার্থীদের নাম রয়েছে।
ভোটের নির্ঘণ্ট প্রকাশের আগে থেকেই আসন বণ্টন নিয়ে আরজেডি-সহ বাম শরিকদের সঙ্গে কংগ্রেসের আলোচনা চলছিল। কিন্তু সূত্র মারফত খবর, সেই আলোচনা চূড়ান্ত না হওয়ায় কংগ্রেস নেতৃত্ব হতাশ হয়ে পড়েছিলেন। এমনকি, এই অস্বস্তিকর পরিস্থিতিতে প্রয়োজনে এবারের নির্বাচনে এককভাবে লড়ার ইঙ্গিতও দিয়েছিলেন তাঁরা।
প্রথম দুই দফার প্রার্থীরা
নির্বাচনের প্রথম দফার মনোনয়ন জমা দেওয়ার শেষ দিন শুক্রবার এবং দ্বিতীয় দফার শেষ দিন সোমবার। এই পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার প্রার্থীদের প্রথম তালিকা প্রকাশ করে কংগ্রেস। প্রথম প্রার্থী তালিকায় প্রবীণ অভিজ্ঞ এবং নবীনদের সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
তালিকা অনুযায়ী, বচ্ছওয়ারা আসন থেকে যুবনেতা প্রকাশ গরিব দাস, বাগাহা থেকে জয়েশ মঙ্গল সিং, নৌতন থেকে অমিত গিরি এবং ছনপটিয়া থেকে অভিষেক রঞ্জনকে প্রার্থী করেছে দল। একই সঙ্গে, কুটুম্বা আসনে রাজ্য সভাপতি রাজেশ রাম এবং কাদওয়া আসন থেকে বামনেতা শাকিল আহমেদ খানকে টিকিট দেওয়া হয়েছে।
এছাড়াও, ভাগলপুর থেকে পুনরায় মনোনীত করা হয়েছে দলের প্রবীণ নেতা অজিত শর্মাকে। দলের অপর প্রবীণ নেতা অবধেশ কুমার সিং লড়বেন উজিরগঞ্জ আসনে।

আলোচনা সত্ত্বেও জট কেন?
উল্লেখ্য, মহাজোটের অভ্যন্তরে আসন বণ্টন নিয়ে সৃষ্টি হওয়া অচলাবস্থা দূর করতে কয়েকদিন আগেই আরজেডি সুপ্রিমো লালু প্রসাদ যাদবের সঙ্গে ফোনে কথা বলেন কংগ্রেস সাংসদ রাহুল গান্ধি এবং দলের সভাপতি মল্লিকার্জুন খাড়গে। কিন্তু সেই আলোচনার পরেও জোটের জট কাটেনি।
কমিশনের প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, বিহারে প্রথম দফায় ১২১টি আসনে ভোটগ্রহণ হবে আগামী ৬ নভেম্বর এবং ১১ নভেম্বর ১২২টি আসনে হবে দ্বিতীয় দফার ভোট। ফলাফল জানা যাবে ১৪ নভেম্বর। ভোটের দিন যত এগিয়ে আসছে, আসন বণ্টন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিতে পারায় দলের মধ্যে অস্বস্তি তত বাড়ছে। সূত্রের খবর, কংগ্রেসের জন্য বরাদ্দ আসন সংখ্যা এবং আরজেডির কয়েকটি শক্তঘাঁটি নিয়ে মতবিরোধের জেরেই এই সমস্যার সূত্রপাত।