এই কি উন্নত দেশের লক্ষণ? বিদ্যুতের খুঁটি, হোর্ডিং, স্টল— ফুটপাথের আসল দাবিদার কারা? ভাইরাল ভিডিও দেখে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য হচ্ছে প্রশাসন!

গত আট বছরেরও বেশি সময় ধরে ভারতে থাকা এক কানাডিয়ান নাগরিক কালেব ফ্রাইসেন (Caleb Friesen) আবারও দেশের পরিকাঠামোগত ত্রুটি, বিশেষত ফুটপাথের দৈন্যদশা নিয়ে সরব হলেন। এই ডিজিটাল কনটেন্ট ক্রিয়েটর তাঁর সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মে একটি ভিডিও আপলোড করেছেন, যা এখন অনলাইন জগতে ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

কালেব তাঁর ভিডিওতে দেখিয়েছেন, একটি অপরিষ্কার ও উঁচু-নিচু ফুটপাথ ধরে স্টলার (শিশুদের গাড়ি) নিয়ে হাঁটা কতটা কঠিন এবং বিপজ্জনক। তিনি অভিযোগ করেছেন, পথচারীদের জন্য তৈরি ফুটপাথে নিরাপত্তা এবং ব্যবহারযোগ্যতা—এই দুটো বিষয়ই সবচেয়ে কম গুরুত্ব পায়।

📉 ফুটপাথের অগ্রাধিকারের তালিকা: পথচারীরা সবার শেষে!
ইনস্টাগ্রাম ও X-এ পোস্ট করা তাঁর ভিডিওর ক্যাপশনে কালেব একটি বিদ্রূপাত্মক তালিকা তৈরি করেছেন। তাঁর মতে, ভারতীয় ফুটপাথগুলি আসলে নিম্নলিখিত জিনিসগুলির জন্য ‘গুরুত্ব অনুসারে’ তৈরি:

১. বিদ্যুৎ সংযোগের বক্স (Power Junction Boxes) ২. বৈদ্যুতিক খুঁটি (Electrical Poles) ৩. হোর্ডিং বা বিজ্ঞাপন ৪. খাবারের স্টল ৫. পার্ক করা গাড়ি ৬. গাছ ও টবের গাছ ৭. পথচারী (Pedestrians) ৮. স্টলার-সহ অভিভাবক/শারীরিক ভাবে অক্ষম ব্যক্তি (Differently Abled)

কালেব স্পষ্ট করে বলেছেন, পথচারী এবং শারীরিক ভাবে অক্ষমদের হুইলচেয়ার বা শিশুদের স্টলার—এগুলি ভারতীয় ফুটপাথের কাছে একেবারে শেষ অগ্রাধিকার।

🗣️ ‘দুঃস্বপ্ন’ দেখছে নেটিজেনরা: অনলাইন প্রতিক্রিয়া
এই ভিডিও প্রকাশের পর থেকেই নেটিজেনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। হাজার হাজার মানুষ নিজেদের শহরের ফুটপাথের অভিজ্ঞতা শেয়ার করে মন্তব্য করছেন:

একজন ইউজার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেছেন, “কেন ফুটপাথে এত ধাতব স্ট্যান্ড বা বাধা তৈরি করা হয়, বুঝি না। এটা পথচারী ও শিশুদের গাড়ির জন্য বিরাট বাধা।”

পুনে থেকে এক নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, “গত সপ্তাহে আমার বাবা ফুটপাথে সুটকেস গড়িয়ে নিয়ে যাচ্ছিলেন, কিন্তু ফুটপাথের গর্তে আটকে গিয়ে তিনি পিছলে পড়েন। প্রথম সারির শহরগুলোও এখন ব্যবহারের অনুপযোগী।”

অনেকেই আবার বিষয়টি নিয়ে রসিকতা করে বলেছেন, “এই বাচ্চাটিকে ছোট থেকেই গর্ত পার হওয়ার প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। বড় হয়ে গাড়ি চালালে গর্তগুলি তখন স্বাভাবিক মনে হবে!”

তবে গুরুতর একটি মন্তব্যে বলা হয়েছে, “উন্নয়নশীল মানসিকতা সব সময় পথচারীকে সর্বনিম্ন অগ্রাধিকার দেয়, যা উন্নত বিশ্বের ঠিক বিপরীত। মূলগতভাবে, একটি (দেশ) গতির জন্য তৈরি করে, অন্যটি জীবনের জন্য।”

এই প্রথম নয়, কালেব ফ্রাইসেন এর আগেও বেঙ্গালুরুর পরিকাঠামোগত ত্রুটিগুলি তুলে ধরেছেন। গত মাসে তাঁর শেয়ার করা এক ভিডিওতে দেখা গিয়েছিল, কীভাবে একটি স্টারবাক্স (Starbucks)-এ যাওয়ার পথে ফুটপাথ কাঁটাতার, নর্দমার জল এবং ভাঙা স্ল্যাবে পূর্ণ ছিল। তাঁর এই ধরনের ভিডিওগুলি অতীতে একাধিকবার স্থানীয় প্রশাসনকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করেছে।

বেঙ্গালুরুর নাগরিক পরিষেবা এবং জনস্বাস্থ্যের উপর এমন সরাসরি সমালোচনা এখন শহরের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা (Hygiene) এবং জননিরাপত্তা (Public Safety) নিয়ে আরও বৃহত্তর আলোচনার জন্ম দিয়েছে।