‘অপরাজিতা বিল’ কেন ঝুলে আছে? দুর্গাপুর কাণ্ডের পরই নারী সুরক্ষা নিয়ে কেন্দ্রকে কড়া বার্তা দিলেন তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া

বাংলা চলচ্চিত্র জগতের জনপ্রিয় মুখ এবং বর্তমানে মেদিনীপুরের তৃণমূল সাংসদ জুন মালিয়া (June Malia) রাজনৈতিক মঞ্চ থেকে ফের একবার ‘অপরাজিতা বিল’ প্রসঙ্গ তুলে ধরেছেন। সম্প্রতি পশ্চিম মেদিনীপুরের চন্দ্রকোনায় এক বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে যোগ দিয়ে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ নারী সুরক্ষা বিলকে আইনে পরিণত না করার জন্য কেন্দ্রের বিরুদ্ধে সরব হন।
দুর্গাপুরের সাম্প্রতিক নৃশংস ঘটনা প্রসঙ্গে মুখ খোলেন জুন মালিয়া। তিনি বলেন, “যে পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাঁরা অবশ্যই শাস্তি পাবে। কিন্তু রাজ্যের আইনশৃঙ্খলা আরও পোক্ত করতে কঠোর আইন প্রয়োজন। অপরাজিতা বিল তো আমরা বিধানসভায় পাশ করিয়ে দিয়েছি, তারপরেও কেন সেটাকে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে?”
জুন মালিয়া রাজ্যের বিজেপি সাংসদদের চ্যালেঞ্জ ছুঁড়ে দিয়ে বলেন, “বাংলায় বিজেপির যাঁরা সাংসদ রয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রে গিয়ে বলুন এই বিলটা পাশ করাতে। তা হলে বুঝব আপনারা সত্যিই বাংলা ও বাংলার মা-বোনেদের কতটা ভালোবাসেন।”
আরজি কর কাণ্ডের পর ধর্ষণের মতো গুরুতর মামলায় দ্রুত তদন্ত ও বিচার নিশ্চিত করতে ‘অপরাজিতা বিল’ নামে এই নারী সুরক্ষা বিলটি বিধানসভায় এনেছিল রাজ্য সরকার। বিলটি বিধানসভায় সর্বসম্মতভাবে পাশ হয় এবং পরে রাজ্যপালের দপ্তর পেরিয়ে রাষ্ট্রপতির কাছে পাঠানো হয়। কিন্তু রাষ্ট্রপতি দ্রৌপদী মুর্মু বিলটিতে কিছু প্রশ্ন তুলে তা রাজভবনে ফেরত পাঠিয়ে দেন, যার ফলে বিলটি আইনে পরিণত হতে পারেনি।
এই ঘটনার পর থেকেই ‘অপরাজিতা বিল’ ফের চর্চায় এসেছে। জুন মালিয়া ছাড়াও তৃণমূলের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ও দুর্গাপুর কাণ্ডের পর থেকেই বারবার এই বিষয়টি নিয়ে সরব হচ্ছেন। তিনি তাঁর এক্স (X) হ্যান্ডেলে মোদী সরকারকে দায়িত্ব থেকে হাত গুটিয়ে নেওয়ার অভিযোগে বিঁধেছিলেন এবং প্রশ্ন তুলেছিলেন— এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত নয় তো?
অপরাধ দমন ও নারী সুরক্ষায় কঠোর আইনের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে ফের সরব হয়ে সাংসদ জুন মালিয়া রাজ্যের অবস্থান স্পষ্ট করেছেন। রাজনৈতিক মহলের মতে, দুর্গাপুর কাণ্ডের পর রাজ্যজুড়ে নারী নিরাপত্তা নিয়ে যে চাপ তৈরি হয়েছে, তাতে এই বক্তব্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।