গর্ভে সাত মাসের সন্তানকে ওষুধ দিয়ে খুন! ৫ লক্ষ টাকা পণ না মেলায় মর্মান্তিক ঘটনা, গ্রেফতার পাষণ্ড স্বামী

বিয়ের পর পণের দাবিতে অত্যাচার এবং তার জেরে সাত মাসের গর্ভস্থ সন্তানকে জোর করে ওষুধ খাইয়ে হত্যা করার এক মর্মান্তিক অভিযোগ সামনে এল উত্তর ২৪ পরগনার হিঙ্গলগঞ্জ থেকে। এই ঘটনায় মৃত গর্ভস্থ শিশুর মা-এর অভিযোগের ভিত্তিতে শিশুর বাবা জামিরুল গাজীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

ঘটনাটি ঘটেছে হিঙ্গলগঞ্জ থানার ভেটকিয়া গ্রামে।

পণের দাবিতে লাগাতার অত্যাচার:

জানা গিয়েছে, জামিরুল গাজীর সঙ্গে রেশমা খাতুনের বিয়ে হয়। বিয়ের সময় রেশমার পরিবার জামিরুলকে ১ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা পণ দিয়েছিল। এরপর জামিরুল চাকরি পাওয়ার জন্য রেশমা খাতুনের বাবার কাছে আরও ৫ লক্ষ টাকা দাবি করে। রেশমার বাবা ৩ লক্ষ ৬৫ হাজার টাকা দিতে পারলেও বাকি টাকা দিতে পারেননি।

টাকার দাবি পূরণ না হওয়ায় জামিরুল গাজী তাঁর অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী রেশমা বিবির উপর অত্যাচার শুরু করে।

গর্ভে সন্তানকে হত্যা ও কবরস্থ:

রেশমা বিবির অভিযোগ, তাঁর গর্ভস্থ সন্তানের বয়স যখন সাত মাস অতিক্রান্ত, তখন জোর করে ওষুধ খাইয়ে গর্ভেই সন্তানকে মেরে ফেলে জামিরুল ও তার পরিবারের সদস্যরা। এরপর সেই মৃত সন্তানকে প্রসব করিয়ে বাড়ির পাশেই কবরস্থ করা হয়।

স্ত্রীকে মারধর ও গ্রেফতার:

সন্তান হারানোর শোক ও যন্ত্রণা নিয়ে রেশমা বিবি সুস্থ হওয়ার পর স্বামীর সঙ্গে অশান্তি শুরু করেন। অভিযোগ, সেই সময় জামিরুল ও তার পরিবার রেশমাকে মারধর করে অচৈতন্য অবস্থায় রাস্তার ধারে ফেলে রেখে চলে যায়। স্থানীয় মানুষ তাঁকে উদ্ধার করে বাপের বাড়ির পরিবারের হাতে তুলে দেয়।

এরপর রেশমা বিবি হিঙ্গলগঞ্জ থানায় পুরো ঘটনা জানিয়ে জামিরুল গাজীর বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে জামিরুলকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশ আজ তাকে বসিরহাট মহকুমা আদালতে তুলবে। একইসঙ্গে, কবরস্থ মৃত সন্তানের দেহ তুলে ময়নাতদন্ত করা যায় এবং ঘটনার পূর্ণাঙ্গ তদন্ত হয়, সেই বিষয়েও আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে পুলিশ।

Editor001
  • Editor001