বিশেষ: চোদ্দ শাক-চোদ্দ প্রদীপ, সংখ্যাটা ‘১৪’ই কেন? ব্যাখ্যা দিলেন পুরাণ গবেষক

আর মাত্র কয়েকদিনের অপেক্ষা, তারপরই দেশজুড়ে আলোর উৎসব দীপাবলি। তার ঠিক আগের দিনটি, অর্থাৎ কার্তিক মাসের কৃষ্ণ পক্ষের চতুর্দশী তিথি, বাংলায় পরিচিত ভূত চতুর্দশী নামে। অনেক অঞ্চলে একে নরক চতুর্দশী বা প্রেত চতুর্দশীও বলা হয়।
বাঙালিদের মধ্যে এই দিনে দুটি বিশেষ প্রথা অত্যন্ত জনপ্রিয়— ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো এবং ১৪ রকমের শাক দিয়ে ভাত খাওয়া। কিন্তু কেন এই ‘১৪’ সংখ্যাটি বেছে নেওয়া হয়? এর বেশি বা কম কেন নয়? পুরাণ গবেষক সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায় bangla.aajtak.in-এ এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন।
১৪ প্রদীপ জ্বালানোর কারণ
সাধারণত মনে করা হয়, অশুভ শক্তিকে বাড়ি থেকে দূরে রাখতেই এই দিনে ১৪টি প্রদীপ জ্বালানো হয়।
তবে পুরাণ গবেষক সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায় জানান, ১৪ সংখ্যাটি বেছে নেওয়া হয়েছে তিথির সঙ্গে মিল রেখে। তিনি বলেন, “যেহেতু দিনটি চতুর্দশী, তাই ১৪টি প্রদীপই জ্বালানো হয়। পুরাণে বলা হয়েছে, এই দিনে প্রদীপ জ্বালানো উচিত মোট ৫টি— একটি যমের উদ্দেশে, একটি চিত্রগুপ্তের উদ্দেশে, একটি যমদূতের উদ্দেশে এবং দুটি যমের দুই ছেলের উদ্দেশে।”
তবে, বাড়ি, উঠোন, ছাদে, দরজার বাইরে, গোয়ালে, চার রাস্তার মোড়ে এমনকি শ্মশানেও প্রদীপ দেওয়ার নিয়ম প্রচলিত রয়েছে। আসলে অনেক বেশি প্রদীপ দেওয়ার নিয়ম থাকলেও, বাংলার নিজস্ব লৌকিক ভাবনায় ও গৃহস্থের সুবিধার জন্য অন্তত ১৪টি স্থানে প্রদীপ দেওয়ার প্রথা শুরু হয়েছে।
১৪ শাক খাওয়ার নেপথ্যে স্বাস্থ্যরহস্য
ভূত চতুর্দশীতে ১৪ শাক খাওয়ার প্রথা নিয়েও রয়েছে আকর্ষণীয় ব্যাখ্যা। এই ১৪ শাক খাওয়ার বিষয়টিও চতুর্দশী তিথি থেকেই মিলে গিয়েছে বলে জানান গবেষক।
সুচেতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মতে, “বাঙালি কোনও কবিরাজই সম্ভবত এই শাকগুলি খাওয়ার বিধান দিয়ে থাকবেন। কারণ এই ১৪ শাক আসলে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এবং পুষ্টিগুণে ভরপুর।” তিনি জানান, সংখ্যা ১৫ বা ১৮ হলে বিশেষ কিছু এসে যায় না, কিন্তু এই শাকগুলিতে সাধারণত সাধারণ অসুখ সরানোর গুণাগুণ রয়েছে।
১৪ শাকের তালিকায় কী কী আছে?
এই ১৪টি শাকের তালিকায় থাকে: ওল, কেও, বেতো, কালকাসুন্দা, নিম, সরষে, শালিঞ্চা বা শাঞ্চে, জয়ন্তী, গুলঞ্চ, পলতা, ঘেঁটু বা ভাঁট, হিঞ্চে, শুষনি এবং শেলু।
আসলে, হেমন্তকালে যখন আস্তে আস্তে শীত পড়তে শুরু করে, তখন সর্দি-কাশি-সহ নানা ধরনের রোগের প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়। কবিরাজ ও বৈদ্যরা মনে করতেন, ঋতু পরিবর্তনের এই সময়ে এই ১৪টি শাক খেলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে এবং এই রোগগুলো মোকাবিলা করা সম্ভব হয়। তাই এই প্রথাটির সঙ্গে ধর্মীয় বিশ্বাসের চেয়ে স্বাস্থ্য সচেতনতা বেশি জড়িয়ে রয়েছে।