আপনার PF অ্যাকাউন্ট আছে? ১৩টি নিয়ম এক করে একক কাঠামো, জেনে নিন কখন এবং কীভাবে তুলবেন সম্পূর্ণ টাকা

কেন্দ্রীয় শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রক কর্মচারী ভবিষ্যনিধি সংস্থা (EPFO)-এর টাকা তোলার নিয়মে এক গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এখন থেকে ইপিএফও সদস্যরা কোনো অতিরিক্ত নথিপত্র ছাড়াই তাঁদের যোগ্য ভবিষ্যনিধি (পিএফ) ব্যালেন্সের সর্বোচ্চ ৭৫% পর্যন্ত অর্থ যখন খুশি তুলতে পারবেন। তবে, বাকি ২৫% অর্থ দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় এবং অবসরের জন্য সংরক্ষিত রাখতে হবে।

আংশিক টাকা তোলার যোগ্যতার সময়সীমাতেও বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে যেখানে বিভিন্ন ক্ষেত্রে টাকা তোলার জন্য ১ বছর থেকে ৭ বছর পর্যন্ত ভিন্ন ভিন্ন সময়সীমা ছিল, এখন তা একরূপ করে মাত্র ১২ মাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। অর্থাৎ, কোনো কর্মচারী এক বছর চাকরি করলেই আংশিক টাকা তোলার সুযোগ পাবেন।

আগে আংশিক তোলার জন্য ১৩ ধরনের আলাদা বিধান ছিল। নতুন ব্যবস্থায় সেগুলিকে একত্রিত করে একটি একক ও সহজ কাঠামো আনা হয়েছে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন হলো, এখন নিয়োগকর্তা এবং কর্মচারী উভয়ের অবদানসহ অর্জিত সুদও তোলার সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যা তোলার জন্য উপলব্ধ অর্থের পরিমাণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

সম্পূর্ণ টাকা তোলার সুযোগ: কোন কোন ক্ষেত্রে?

শ্রম মন্ত্রক স্পষ্ট করেছে যে, নির্দিষ্ট কিছু পরিস্থিতিতে বাকি ২৫% অর্থও সম্পূর্ণভাবে তোলা যাবে। এই বিশেষ ক্ষেত্রগুলির মধ্যে রয়েছে:

অবসর (৫৫ বছর বয়স পেরোলে)।

স্থায়ী অক্ষমতা বা কর্মক্ষমতা হারানো।

চাকরি হারানো বা ছাঁটাই (Retrenchment)।

স্বেচ্ছাবসর (VRS)।

স্থায়ীভাবে বিদেশে চলে যাওয়া।

বেকারত্বের ক্ষেত্রে, সদস্যরা তাঁদের মোট পিএফ ব্যালেন্সের ৭৫% অবিলম্বে তুলতে পারবেন। বাকি ২৫% এক বছর পর তোলা সম্ভব হবে।

দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয়ের ভারসাম্য রক্ষা ও পেনশন

মন্ত্রক জানিয়েছে, এই পদক্ষেপের উদ্দেশ্য কর্মীদের স্বল্পমেয়াদি আর্থিক প্রয়োজনে সহায়তা করা। তবে একই সঙ্গে অবসরের জন্য সঞ্চয় বজায় রাখাও লক্ষ্য। বারবার টাকা তোলার কারণে অনেক সদস্যের অ্যাকাউন্টে চূড়ান্ত নিষ্পত্তির সময় ২০,০০০ টাকারও কম থাকে।

নতুন নিয়মে পেনশন সুবিধার কোনো পরিবর্তন আসেনি। পেনশন পাওয়ার জন্য ন্যূনতম ১০ বছরের পরিষেবা অপরিহার্য থাকবে। তবে আগাম পেনশন তোলার নিয়ম সংশোধন করে এখন ২ মাসের পরিবর্তে ৩৬ মাস পর উত্তোলনের সুযোগ দেওয়া হয়েছে, যাতে সদস্য ও তাঁদের পরিবার দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সুরক্ষা পায়।

বর্তমানে ইপিএফও প্রায় ২৮ লক্ষ কোটি টাকার তহবিল পরিচালনা করে ৩০ কোটিরও বেশি সদস্যকে সেবা প্রদান করছে।