দিঘা-রাজারহাটের পর এবার দার্জিলিংয়ের পালা, দ্বিতীয় মহাকাল মন্দির গড়বেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

উত্তরবঙ্গ সফরের শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় দার্জিলিঙে আরও একটি মহাকাল মন্দির তৈরির পরিকল্পনার কথা জানালেন। তিনি বলেন, ইতিমধ্যেই দিঘায় জগন্নাথ ধাম এবং রাজারহাটে দূর্গা অঙ্গন তৈরি করা হয়েছে। এবার তাঁর ইচ্ছে দার্জিলিঙে দ্বিতীয় মহাকালের মন্দির স্থাপন করার।

এই কাজের জন্য দ্রুত একটি ট্রাস্ট গঠন করার নির্দেশও দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। সরকারি কর্মকর্তাদের এই ট্রাস্ট তৈরির ব্যাপারে নজর দেওয়ার জন্য তিনি নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানা গেছে। উত্তরবঙ্গের বন্যা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখতে এবং জলের সমস্যা মেটাতে নাগরাকাটা, চালসা, মাল হয়ে মুখ্যমন্ত্রী এই মুহূর্তে দার্জিলিঙে রয়েছেন।

মহাকাল মন্দিরটির ইতিহাস সুপ্রাচীন। জানা যায়, ১৭৬৫ সালে এটি ‘দোর্জে-লিং’ নামে একটি বৌদ্ধ মনাস্ট্রি ছিল। ১৭৮৮ সালে গোর্খা সেনারা সেটি ধ্বংস করে দেয়, যার পর এই মহাকাল মন্দির তৈরি হয়। দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে এই মন্দির হিন্দু ও বৌদ্ধ ধর্মের সংস্কৃতির মিলনক্ষেত্র হিসেবে পরিচিত। মুখ্যমন্ত্রীর এই নতুন মন্দির গড়ার ঘোষণা রাজ্যের ধর্মীয় ও পর্যটন মানচিত্রে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করা হচ্ছে।

উত্তরবঙ্গে বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলা নিয়ে বুধবার একটি সভা করেন মুখ্যমন্ত্রী। বন্যার মূল কারণ ভূমিধস চিহ্নিত করে তিনি তা রোধ করার জন্য ম্যানগ্রোভ অরণ্য তৈরির কথা বলেন। এই মন্তব্যের পরই অবশ্য রাজনৈতিক মহল থেকে সাধারণ মানুষ সমালোচনায় সরব হন। বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী এই প্রসঙ্গে রসিকতা করে মুখ্যমন্ত্রীকে ভূগোল এবং বোটানিতে নোবেল দেওয়ার কথা বলেন।

দ্বিতীয় মহাকাল মন্দির তৈরির ঘোষণা অভিনব হলেও বিরোধী দলের নেতৃত্ব এখনও পর্যন্ত কোনো প্রতিক্রিয়া দেননি। তবে এই সফরে মুখ্যমন্ত্রী জলের সমস্যার পাশাপাশি সামাজিক সমস্যার কথাও বলেছেন এবং স্থানীয় মানুষের দাবিতে স্কুল তৈরি করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন।

অন্যদিকে, দ্বিতীয় মহাকাল মন্দির তৈরির ভিডিও বার্তায় সাধারণ মানুষের প্রতিক্রিয়া ছিল মিশ্র। অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন, সরকার কি শুধু মেলা আর মন্দির করার জন্য? মৌলিক চাহিদা পূরণ না হওয়া এবং চা-শিল্পের দুর্দশার প্রসঙ্গে ক্ষোভ প্রকাশ করে সাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের প্রশ্ন, “মন্দির করলে কি মানুষের পেটে ভাত জুটবে? বাংলার মানুষ আর কতদিন ভাতা আর ভিক্ষের উপরে বেঁচে থাকবে?” উত্তরবঙ্গের পর্যটন ও চা শিল্পকে অবহেলা করার অভিযোগ তুলে সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বহু মানুষ।