‘রুশ তেল কেনা বন্ধ হবে’, মোদীর আশ্বাস বিতর্কে দিল্লি-ওয়াশিংটন বৈঠক! ট্রাম্পের দাবির পর কী জানাল ভারত?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এক মন্তব্যের পর আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছিল—ভারত কি সত্যিই রাশিয়ার ওপর তেলের নির্ভরতা কমাচ্ছে?—তার মাঝেই এ বিষয়ে মুখ খুলল নয়াদিল্লি। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁকে আশ্বস্ত করেছেন, ভারত শীঘ্রই রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে। তিনি আরও বলেছিলেন, “মোদী বলেছেন, তিনি রুশ তেল কেনা বন্ধ করবেন; একই কথা আমি চিনের প্রেসিডেন্টকেও জানিয়েছি।”
ট্রাম্পের এই দাবির পরপরই ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রক গুরুত্ব দিয়ে জানিয়েছে, ভারত দীর্ঘদিন ধরে বহুমুখী তেল সরবরাহ নীতি অনুসরণ করছে। মন্ত্রকের ভাষায়, “আমাদের লক্ষ্য দুটি, প্রথমত, দেশীয় ভোক্তাদের জন্য তেলের দাম স্থিতিশীল রাখা এবং দ্বিতীয়ত জ্বালানির উৎস বৈচিত্র্য নিশ্চিত করা।” এই বক্তব্য স্পষ্ট করে দেয় যে ভারতের জ্বালানি নীতি কোনও বিদেশি দাবি বা চাপের ভিত্তিতে নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ মাথায় রেখেই নির্ধারিত হবে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ভারতের মোট তেল আমদানির প্রায় ৩৪ শতাংশ এসেছে রাশিয়া থেকে। যদিও আমদানির পরিমাণ সামান্য হ্রাস পেয়েছে, ভারত মধ্যপ্রাচ্য ও মার্কিন বাজার থেকেও নতুন সরবরাহ চুক্তি করছে।
চলতি সপ্তাহে ওয়াশিংটনে ভারত ও মার্কিন প্রশাসনের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে। এই বৈঠকে দুই দেশের প্রতিনিধিরা রুশ তেল, প্রযুক্তি, প্রতিরক্ষা সহযোগিতা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে মতবিনিময় করছেন।
ট্রাম্প যদিও দাবি করেছেন যে ভারত রুশ তেল কেনা বন্ধ করবে, কিন্তু সূত্রের খবর অনুযায়ী, ভারত মার্কিন প্রতিনিধিদের জানিয়েছে যে রাশিয়ার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পূর্ণভাবে আন্তর্জাতিক আইন এবং নিজস্ব জ্বালানি প্রয়োজনের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে। ভারত ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে বাণিজ্য ও জ্বালানি সংক্রান্ত আলোচনা ইতোমধ্যেই চলছে, যেখানে উভয় পক্ষই “গঠনমূলক মনোভাব” বজায় রেখেছে বলে জানা গিয়েছে।
বিরোধী দল কংগ্রেসের নেতারা এই ঘটনার প্রেক্ষিতে কেন্দ্রীয় সরকারের অবস্থানকে প্রশ্নের মুখে দাঁড় করিয়েছেন। কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী বলেছেন, “দেশের জ্বালানি নীতি কোনও বিদেশি নেতার দাবির ওপর নির্ভর করতে পারবে না। সরকারকে স্পষ্ট করতে হবে ট্রাম্পের বক্তব্য কি সত্যি?”
তবে বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভারত এমন একটি ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি বজায় রাখছে যেখানে মার্কিন সম্পর্ক রক্ষা এবং রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা উভয়কেই সমান্তরালভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক চাপ বাড়লেও, দেশ তার জ্বালানি নীতিকে স্বাধীন ও বাস্তবসম্মত রাখার দৃঢ় সংকল্প দেখাচ্ছে। ট্রাম্পের মন্তব্য কূটনৈতিক আলোচনায় নতুন মাত্রা যোগ করলেও, ভারত স্পষ্ট করেছে দেশের জ্বালানি নীতি নির্ধারিত হবে শুধুমাত্র ভারতের জনগণের স্বার্থ মাথায় রেখে।